এক নজরে আজকের গুরুত্বপূর্ণ সকল নিউজ

শিরোনাম ১, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবাসীদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করলো ওমান ২, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাসপোর্ট সেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগ প্রবাসীরা ৩, সিনোফার্ম থেকে কেনা আরও ১০ লাখ টিকা দেশে আসছে আজ ৪, আফগানিস্তানে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে আনতে কাজ করছে ব্র্যাক ৫, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর ভুয়া এপিএস শান্তাকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা ৬, কানাডায় আশ্রয় পাবেন ২০ হাজার আফগান

নিউজসম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবাসীদের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করলো ওমান

মহামারী করোনা নিয়ন্ত্রণে এবার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রবাসীদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সুলতানাত অব ওমান। এ কার্যক্রম প্রথম পর্যায়ে দেশটির মাসিরাহ অঞ্চলে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সমগ্র ওমানেও শুরু করা হবে বলে জানাগেছে সূত্রে। মাসিরাহ অঞ্চলে গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হয়ে এই ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলবে আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। মাসিরাহ থেকে ইবরাহিম খলিল নামে এক বাংলাদেশী প্রবাসী আমাদের জানিয়েছেন, সরকারি ভাবে প্রতিদিন ৫০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রবাসীদের প্রচন্ড ভিড় থাকায় তা বৃদ্ধি করে এখন কয়েক হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। প্রবাসীরা ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণ করছেন বলে জানান খলিল। কল রেকর্ডঃ ইবরাহিম খলিল, মাসিরাহ, ওমান ওমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, করোনা মহামারি প্রতিরোধে দেশের সকল নাগরিক ও প্রবাসীদের ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে মূলত এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে মাসিরা দ্বীপের প্রবাসীদের বিনামূল্যে টিকা দেওয়া শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে সমগ্র ওমানেই এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই টিকার আওতায় দেশটিতে বসবাসরত সকল প্রবাসী যাদের বৈধ আবাসিক কার্ড রয়েছে তারা টিকা নিতে পারবেন বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। তবে মাসিরাহ অঞ্চলে খোজ নিয়ে জানাগেছে, যাদের ভিসা পতাকা নেই, তাদেরকেও ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। মূলত কে বৈধ আর কে অবৈধ এইসব না দেখে এখন সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রবাসীরা। ওমান সরকারের এমন উদ্যোগের ভুয়ুসি প্রশংসা করেছেন দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা। শুক্রবার থেকে মাসিরা স্পোর্টস হলে এই টিকা ক্যাম্পেইন চলছে। এতে যারা টিকা নিতে ইচ্ছুক তাদের দ্রুত নিবন্ধন করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। আজ শনিবার (১৪-আগস্ট) দ্বিতীয় দিনের মতো অত্র অঞ্চলে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়। এতে সকাল থেকেই ব্যাপক ভিড় লক্ষ করা গেছে। ভ্যাকসিন গ্রহণে প্রবাসীদের এমন উৎসাহকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে ওমান সরকার। এরইমধ্যে মাসিরা দ্বীপে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রধান ডা. খালেদ আল সাদি টিকা-কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “আশা করা যাচ্ছে টিকা-কেন্দ্র প্রতিদিন শত শত প্রবাসীদের ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হবে।” মাসিরা দ্বীপের একজন সমাজকর্মী রফিক ভাদানাপ্পলী বলেন, “দেশটির দক্ষিণ আশ শারকিয়াহ প্রদেশে ১৮ বছরের বেশি বয়সী কয়েকশ প্রবাসী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের ১ ম ডোজ বিনামূল্যে পেয়েছেন। উল্লেখ্য, মাসিরাহ দ্বীপে প্রায় আট হাজার স্থানীয় নাগরিক এবং ছয় হাজার প্রবাসী বসবাস করেন। যাদের বেশিভাগই বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং অন্যান্য এশীয় বংশোদ্ভূত।

নিউজ-
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পাসপোর্ট সেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগ প্রবাসীরা

ঢাকায় পাসপোর্ট অধিদফতরের সার্ভারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দেশে দেশে প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্ট সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রবাসীরা।

মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, এমআরপি সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির কারণে পাসপোর্টের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।



জানা যায়, জুনের শুরুতে এমআরপি সার্ভারের তিন কোটি পাসপোর্টের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায়, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ গত চার সপ্তাহে কোনো পাসপোর্ট ছাপাতে পারেনি।

কুয়েতের বাংলাদেশ দূতাবাস ১১ আগস্ট এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশিদের নির্ধারিত সময়ে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া যাচ্ছে না। সার্ভারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়ায় দূতাবাসের পাসপোর্ট প্রস্তুত কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস ৩০ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বাংলাদেশে টেকনিক্যাল সমস্যা থাকার কারণে ৮ জুনের পর যেসব পাসপোর্টের রি-ইস্যুর আবেদন করা হয়েছে, সেই পাসপোর্ট এখনও আসেনি। তাই, পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ করা হলো।

দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস গত ৬ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায় যে, পাসপোর্ট অধিদফতরের কারগরি সমস্যার কারণে নতুন পাসপোর্ট বিতরণ সম্ভব হচ্ছে না।

এ ঘটনা প্রবাসীরা বলছেন, সময়মত পাসপোর্ট না পাওয়ার কারণে অনেকেই কাজের অনুমোদন নবায়ন করতে আবেদন জমা দিতে পারছেন না। এমনকি তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার জন্যও আবেদনপত্র জমা দিতে পারছেন না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এসব প্রবাসীরা।

জানা গেছে, বাংলাদেশে এমআরপি পাসপোর্টের কাজ পেয়েছিল মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান আইরিস করপোরেশন। সেখানে তিন কোটি পাসপোর্টের চুক্তি ছিল। তবে সম্প্রতি সেই তিন কোটি আঙুলের ছাপ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর নতুন করে আর পাসপোর্ট ছাপা যাচ্ছিল না।

সেই প্রেক্ষিতে সার্ভারের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে কুয়েত, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, লেবানন, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়াসহ কয়েকটি দেশের পাসপোর্ট সেবা সাময়িক বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় সেখানে থাকা বাংলাদেশ দূতাবাস।

নিউজ
সিনোফার্ম থেকে কেনা আরও ১০ লাখ টিকা দেশে আসছে আজ

চীনের সিনোফার্ম থেকে বাংলাদেশ সরকারের কেনা ১০ লাখ ডোজ টিকা আজ (১৪ আগস্ট) ঢাকায় আসছে। টিকা বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি রাতে ঢাকার বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, সিনোফার্ম থেকে সরকারের কেনা ১০ লাখ ডোজ টিকা শনিবার আসবে।

অন্যদিকে বিমান জানিয়েছে, শনিবার সকাল ১০টায় বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ মডেলের চার্টার্ড ফ্লাইট (বিজি-৫০৬৬) টিকা আনতে ঢাকা থেকে চীনের তিয়ানজিন বিনহাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়। এদিন রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে টিকা বহনকারী ফ্লাইটটি ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরার কথা রয়েছে।

সিনোফার্ম থেকে বাংলাদেশ সরকারের কেনা এখন পর্যন্ত ৭০ লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছিলেন, সিনোফার্ম থেকে সব মিলিয়ে সাত কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে দেড় কোটি ডোজের দাম ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি ছয় কোটি টিকার বিষয়ে কাজ চলছে।

গত ১২ মে প্রথমবার সিনোফার্মের তৈরি ৫ লাখ টিকা উপহার হিসেব বাংলাদেশে পাঠায় চীন। এরপর দ্বিতীয় দফায় গত ১৩ জুন আরও ছয় লাখ টিকা উপহার হিসেবে পাঠায়। সব মিলিয়ে ১১ লাখ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে চীন। আরও ১০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দেবে দেশটি।

এছাড়া, কোভ্যাক্সের আওতায় তিন চালানে সিনোফার্ম থেকে দেশে ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৮০১ ডোজ টিকা এসেছে। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত চীন থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ ৬১ হাজার ৮০১ ডোজ টিকা দেশে এসেছে।

নিউজ-
আফগানিস্তানে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে আনতে কাজ করছে ব্র্যাক

আফগানিস্তানে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে বিশ্বের বৃহত্তম এনজিও ব্র্যাক। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, আফগানিস্তানে তাদের তিন হাজারের মতো কর্মীর মধ্যে ১৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, এদের ১৫ জন বাংলাদেশি।


ব্র্যাক জানিয়েছে, আফগানিস্তানে কর্মরত সব বিদেশি কর্মীকে শুক্রবার থেকে নিজ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন রওয়ানা দিয়েছেন। আর যারা আফগানিস্তানের বাইরে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন, তাদের আপাতত কর্মস্থলে না ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কমিউনিটি উন্নয়ন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, মানবিক সহায়তা ও খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুতে কাজ করছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল।

এখন তালেবান ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে দেশটি থেকে বিদেশি কর্মীদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশি সংস্থাটি।

ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদের বরাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানে কর্মরত কর্মীদের ঝুঁকি নিরসন করে তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রম চলবে। স্থানীয় কর্মীরাই চলমান প্রকল্পগুলো অব্যাহত রাখবেন।

জানা গেছে, ১৯৭৯ সালের পর থেকে কাবুলে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। পাশের দেশ উজবেকিস্তান থেকেই আফগানিস্তান সম্পর্কিত বিষয়গুলো দেখভাল করা হয়। বর্তমানে উজবেক রাজধানী তাসখন্দ থেকে আফগান পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন সেখানকার রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি ভয়েস অব আমেরিকার সংবাদদাতাকে বলেছেন, ঢাকায় আফগান দূতাবাসের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় খোঁজখবর রাখছে। আমি তাসখন্দ থেকে যা পাই তা সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাকে জানাচ্ছি। মিশনে একটি হটলাইন চালু করা হয়েছে। ই-মেইল নম্বরও দেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের সোর্স থেকে কিছু খোঁজখবর পাচ্ছি। যেসব বাংলাদেশি সেখানে কর্মরত ছিলেন তাদের ব্যাপারে খবর রাখছি। বিশেষ করে, এনজিওকর্মীদের খোঁজ নিচ্ছি। চারজন বাংলাদেশি জেলে রয়েছেন। তাদের মুক্ত করার চেষ্টা করছি।

আফগানিস্তান থেকে পশ্চিমা সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর থেকেই দোর্দণ্ডপ্রতাপে সশস্ত্র অভিযান শুরু করেছে তালেবান। এর মধ্যে গত ৬ আগস্ট থেকে দেশটির ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর মধ্যে ১৮টির দখল নিয়েছে তারা। আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম শহরও এখন তালেবানের দখলে। তারা যেকোনো সময় কাবুলে হামলা চালিয়ে পশ্চিমা-সমর্থিত সরকারের পতন ঘটাতে পারে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, মাস তিনেকের মধ্যে কাবুল সরকারের পতন ঘটবে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, তালেবান গোটা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়া এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এ অবস্থায় কাবুলের দূতাবাসগুলো থেকে কূটনীতিকদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে বিভিন্ন দেশ।

এদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য, দলিল-দস্তাবেজ এবং কম্পিউটার ধ্বংস করার জন্য দূতাবাস কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন সরকার। তালেবানরা একের পর এক আফগান প্রদেশ দখল নেওয়ার প্রেক্ষিতে মার্কিন সরকার এই নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন সরকারের আশঙ্কা, এসব তথ্য ও দলিল দস্তাবেজ ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারে তালেবান। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের।

নিউজ-
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর ভুয়া এপিএস শান্তাকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তা

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হিসেবে ভুয়া পরিচয়দানকারী শান্তা চৌধুরী থেকে সতর্ক থাকতে বলেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তা চৌধুরী নামে এক নারী ‘প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর চুক্তিভিত্তিক এপিএস হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন’ মর্মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বুধবার (১১ আগস্ট) একটি পোস্ট দিয়েছেন। এরপর বিষয়টি বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এটি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য। জনমনে বিভ্রান্তি নিরসনের লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে, শান্তা চৌধুরী নামের কাউকে মন্ত্রী চেনেন না এবং তার এপিএস হিসেবে নিয়োগও দেননি। ইতোমধ্যে শান্তা চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রীর এপিএস রাশেদুজ্জামান। মন্ত্রণালয় জানায়, প্রকৃতপক্ষে মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানকে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর মন্ত্রী ইমরানের এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই এ ব্যাপার কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য মন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

নিউজ-
কানাডায় আশ্রয় পাবেন ২০ হাজার আফগান

তালেবানদের প্রতিহিংসার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নারীনেত্রী, মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিকসহ ঝুঁকিতে থাকা ২০ হাজারের বেশি আফগানকে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা চলছে বলে জানিয়েছেন কানাডার অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী মার্কো মেনডিসিনো।

শুক্রবার তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, কানাডা সরকারের জন্য কাজ করা হাজার হাজার আফগান, যেমন দোভাষী, দূতাবাসের কর্মী এবং তাদের পরিবারকে কানাডায় আশ্রয় দিতে এর আগে নেওয়া উদ্যোগের পাশাপাশি এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু তালেবানরা আফগানিস্তানের অধিকতর এলাকা দখল করে চলেছে এবং এতে করে অনেক আফগানের জীবন ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে রয়েছে তাই এমন পদক্ষেপ।’ তবে তিনি এর নির্দিষ্ট সময়সূচি সম্পর্কে কিছু জানাননি।

এছাড়া কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হারজিত সজ্জন জানিয়েছেন, কানাডার কিছু সেনা আফগানিস্তানে মানুষজনকে স্থানান্তরের কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সেখানে এখন যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে তা অত্যন্ত প্রকট।’

মেনডিসিনো জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে চলমান সহিংস পরিস্থিতিতে যারা ঝুঁকিতে রয়েছেন তারাই আপাতত বসবাসের সুযোগ পাবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নারীনেত্রী, মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, নিপীড়নের শিকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সমকামীরা।

সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী তালেবানের হাতে পতন ঘটছে দুই দশকের যুদ্ধে বিধ্বস্ত আফগানিস্তানের। দেশটির নিরাপত্তাবাহিনীর সব ধরনের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তালেবানের আক্রমণের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে। তারা তালেবানের অগ্রযাত্রা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

আফগানিস্তানে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহর দখল করছে তালেবান। কাবুল থেকে নিজ দেশের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানে দুই দশকের মার্কিন উপস্থিতির প্রতীকী ও বিশৃঙ্খল সমাপ্তি ঘটছে।