হেফাজতে ইসলামীর নতুন নেতৃত্বের প্রতি প্রত্যাশা- শেখ ফজলুল করীম মারুফ

রবিউল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার : হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। “অরাজনৈতিক সংগঠন”কে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। একটি রাজনৈতিক সংগঠনের যেভাবে কমিটি গঠন হয় হেফাজতেও সেভাবেই কমিটি করা হচ্ছে, কমিটির পদবিন্যাসও রাজনৈতিক সংগঠনের মতো। সংগঠনের নেটওয়ার্কও রাজনৈতিক সংগঠনের মতো। তারা যে ধরনের কর্মসূচি পালন করেন তাও রাজনৈতিক কর্মসূচির মতো।

তারপরেও হেফাজতে ইসলাম নিজেদেরকে অরাজনৈতিক সংগঠন দাবী করার একটা অর্থ হতে পারে যে, হেফাজতে ইসলামী ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি করবে না। তারা “প্রেশার গ্রূপ” হিসেবে বা “সিভিল সোসাইটি” হিসেবে কাজ করবে।

যারা নিজেরা কখনোই ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করবে না কিন্তু সবসময়ই ক্ষমতাবানদের ওপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন করবে।

হেফাজতে ইসলামীর একটা ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাস একই সাথে গৌরবের, রক্তের ও দুঃখজনক সত্য হলেও গাদ্দারীর ইতিহাস।

হেফাজত ধুমকেতুর মতো উদিত হয়ে অস্তমিত হয়ে গিয়েছিলো। আবারো তা উদিত হয়েছে।

নতুন এই উদয়কালে হেফাজতে ইসলামীর প্রতি জাতীর প্রত্যাশাসমুহ,

১. ৫ মের #শহীদের #তালিকা প্রণয়ন করে তাদের হত্যার বিচারের জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবী তোলা।

২. ৫ মের আহতদের তালিকা করে তাদের ক্ষতিপূরণে সরকারকে বাধ্য করা।

৩. সরকার ক্ষতিপূরণ দেয়ার আগ পর্যন্ত হেফাজতের পক্ষ থেকে তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়া।

৪. ৫ মের কালো রাতে এবং আগে-পরে যারা হেফাজতের সাথে গাদ্দারী করেছে তাদের সম্পর্কে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।

৫. বিগত বছরগুলোতে হেফাজতের সকল আয়-ব্যয় প্রকাশ করা।

৬. হেফাজতে ইসলামীর মরহুম আমীরের সাথে শেষ জীবনে যে অন্যায় আচরন ও বেয়াদবী করা হয়েছে তার তদন্ত ও বিচার করা।

৭. তাদের ঘোষিত ব্যাখ্যা ও কৌশল অনুসারে হেফাজতের অরাজনৈতিক চরিত্র ধরে রাখা।

৮. হেফাজতে ইসলামীকে আরেকটি গাদ্দারীর হাত থেকে রক্ষা করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।

উপর্যুক্ত প্রত্যাশাগুলো তৈরি হয়েছে পুর্বের ইতিহাস থেকে। পুর্বে প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে। হেফাজতের নতুন নেতৃত্বে অনেক প্রাজ্ঞ সাংগঠনিক ব্যক্তি আছেন। তারা যদি উপর্যুক্ত প্রত্যাশাগুলো আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেন তাহলে হেফাজতে ইসলামী ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। অন্যথায়….

আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *