মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:১১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

যতদিন যাচ্ছে কাশ্মীরীরে ততই বাড়ছে ধড়-পাকড় ও অত্যাচার-Muslimvoice24.com

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৯০ Time View

একেকটা সপ্তাহ যাচ্ছে আর কাশ্মীরে ভারতীয় ধরপাকড়-নিপীড়ন চরম রূপ নিচ্ছে। সেখানকার ফোন লাইন, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের আটক, সপ্তাহ তিনেক ধরে কারফিউ জারি করেও আশ মেটেনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার সরকার ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও মানবাধিকারকর্মীসহ কয়েক হাজার কাশ্মীরিকে কারাবন্দি করেছে।

একটি নৃতাত্তি¡ক-ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর ওপর এই নিপীড়ন ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। প্রতিহিংসাপরায়ণ জাতীয়তাবাদের এই পরমানন্দদায়ক উচ্ছাসের সঙ্গে মিল খুঁঁজতে হলে সবোদান মিলোশোভিচের অধীনস্ত সেই সার্বিয়ার কথাই স্মরণ করতে হবে।

দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো আনন্দে লম্ফঝম্ফ করছিল। কাশ্মীরিদের ক্ষোভ ও অসন্তোষের খবর প্রকাশ করায় বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমসের মতো পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোকে সামাজিকমাধ্যমে তুলাধোনা করেছেন ভারতীয় অনেক সাংবাদিক। দেশটির গণমাধ্যমের সর্বসম্মত সম্মতি মোদি সরকারকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। গত সপ্তাহে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলকে কাশ্মীর সফরে যেতে দেয়া হয়নি।
এই দায়মুক্তিই বলে দিচ্ছে, কীভাবে হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার মতো এক অসাধারণ ক্ষমতায় সবাইকে প্রলুব্ধ করতে পেরেছেন নরেন্দ্র মোদি। কীভাবে তার সুর অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে অধিকাংশ বিদেশি সরকার ঘরোয়া সঙ্কট নিয়ে এতটাই বিক্ষিপ্ত চিত্ত যে, কাশ্মীরের ঘটনায় তারা মনোযোগ দিতে পারছে না। হিন্দুত্ববাদী মোদি ও তার অনুসারীরা সেই সুযোগটিও ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছেন। ভারতকে একঘরে করতে পাকিস্তানের কঠোর প্রচারাভিযানও ব্যর্থ হয়েছে।

কাশ্মীর পরিস্থিতি এখনও অবনতির দিকে যাচ্ছে। ভারতের শুভাকাক্সক্ষীদের প্রশ্ন- মোদি নিজের ও তার হিন্দু জাতীয়তাবাদী অনুসারীদের জন্য অবারিত ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন। ঠিক তখন তা একটি যৌক্তিক ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারত যে দাবি করছে, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা?
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কাশ্মীর নিয়ে যে খবর ছাপা হচ্ছে, তা সমানভাবে ভারতীয় সরকারের সমালোচনামূলক। বিশেষ করে কাশ্মীরের পরিস্থিতি খুবই স্বাভাবিক বলে ভারতের সুস্পষ্ট মিথ্যা দাবি নিয়ে এই সমালোচনা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরেও একই দাবি করা হয়েছে।

কাশ্মীরের সড়কগুলোতে ভারী অস্ত্রসজ্জিত সেনাদের উপস্থিতির ছবি প্রথম পাতায় প্রকাশ করার মানে দাঁড়ায়, মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যটি কার্যত সামরিক দখলদারিত্বের অধীনে।
কাশ্মীরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে যাচ্ছেন বলে যে ভাষ্য মোদি দিয়েছেন, তাও অদৃশ্যমাণ এবং স্পষ্টত প্রতারণামূলক। ভ‚স্বর্গ বলে খ্যাত রাজ্যটির লেখক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিকরা তাদের ইতিহাস ও ভাগ্য নিয়ে বিশ্বের দর্শকদের এমন জ্ঞানই দিচ্ছেন।

এসব সমালোচনাকে অপ্রাসঙ্গিক ও অসহায় বলে খুব সহজেই সমালোচনা করা সম্ভব। কিন্তু এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের আবির্ভাব ঘটেছে, যখন ভারতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতির অনেক কঠিন সমালোচকরা প্রশ্ন ছুড়ছেন যে মোদি কী ধরনের নেতা।
অর্থনৈতিক উপাত্ত কিংবা পাকিস্তানের ভ‚খÐের ভেতরে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ শিবির ধ্বংস নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দম্ভ ভারতের বাইরে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পাত্তা পাচ্ছে না।

কিন্তু তার নজরদারিতেই মুসলমানদের পিটিয়ে হত্যার ঘটনা মোদির হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠনের উৎপত্তি নিয়ে ১৯২০-এর দশকে ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদী আন্দোলনের মতোই সবার মনোযোগ টানতে পেরেছে।
খবর ও বিশ্লেষণে লক্ষণীয়ভাবেই ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভøাদিমির পুতিন, জেইর বোলসোনারো ও রদ্রিগো দুতার্তের মতো লোক-খেপানো রাজনীতিবিদদের দলে মোদিকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না।

এমনকি দুর্বৃত্ত দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিতি পাওয়া পাকিস্তানও মোদি সরকারকে ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী বলে আখ্যায়িত করার মতো আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে।
২০০২ সালে মুসলমানদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গার কলঙ্ক মুছতে মোদি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বলে যে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটিও এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমাদের অনেককে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদকে উস্কে না দিয়ে তিনি ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চান। সে সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চান।
অর্থনৈতিক আধুনিকতাবাদী হিসেবে যে ভাবমর্যাদা তিনি গড়ে তুলেছিলেন, ২০১৬ সালে পুরনো মুদ্রা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্তের পর সেটিও হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। কাশ্মীর-পরবর্তী ঘটনায় এই ভাবমর্যাদা রক্ষা করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

কাশ্মীরে মোদি ধরপাকড় শুরু করার আগেই ভারত থেকে তহবিল তুলে নিচ্ছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলে আরেক হতাশার খবর পাওয়া গেছে।

ভারতের জনপরিসরে এই গোঁড়ামি তাদের আরও বিস্ময়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদি তারা মনে করেন যে এসবের পরও সামাজিক সঙ্গতি এবং তাদের নেতাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিচারশক্তি বহালই থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102