রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

মহামারী করোনার প্রজননকেন্দ্র মসজিদ! মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ৪৩৮ Time View

সন্তান মা থেকে দূরে সরে গেলো। ঢুকে পড়লো হিংস্র জানোয়ারের এড়িয়ায়। বাঘ ভাল্লুকের ভয় আছে। বিপদ থেকে বাঁচতে সন্তানকে মা-বাবার কোলে ফিরে যাওয়া উচিত, কারন সন্তানের কাছে মা-বাবা থেকে আস্থার জায়গা আর নাই। এজন্য দেখবেন— মা-বাবা শিশুকে উপরে ছুড়ে মারলেও শিশু কাঁদে না, এমনকি ভয়ও পায় না, বরং হাসে। কারণ, শিশু জানে যতো উপরেই মারুক না কেনো বাবা তাকে ঠিকই রক্ষা করবেন, ছুঁড়ে ফেলবেন না। সন্তানের জন্য বাবা এমনই আস্থা ও নিরপাদ এক ঠিকানা।

কিন্তু কী হলো?— মায়ের দরজা সন্তানের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হলো! সকাল আটটা থেকে নয়টা পর্যন্ত চাচার ঘরে যেতে পারবে, নয়টা থেকে বারোটা পর্যন্ত দাদার ঘরে যেতে পারবে, বারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মামার ঘরে যেতে পারবে, পাঁচটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত বন্ধুর ঘরে থাকতে পারবে, কিন্তু কোনোভাবেই মায়ের কোলে ফিরে যেতে পারবে না! হিসাব টা কি বুঝতে পেরেছেন?

হৃদয়ে রক্তক্ষরণের প্রবাহিত রক্ত দিয়ে লিখছি— অব্যক্ত এক যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি সেই কবে থেকে! একদল মানুষ মসজিদে জামাতের বিরুদ্ধে এমনভাবে লেগেছে, মনে হচ্ছে মসজিদ করোনার প্রজননকেন্দ্র! অন্যদের কথা বলে লাভ নেই, আলেমদেরই একটা অংশ মসজিদে জামাতের বিরুদ্ধে বেশ উঠে পড়ে লেগেছে!

আমরা দিন দিন ইসলামিক সেকুলার হয়ে উঠছি। আলেমরা আলেমদের বিরুদ্ধে লেগেছে! কেমন যেনো পাশ্চাত্যবাদী সূরে কথা বলতে শুরু করেছি আমরা। দুনিয়াবী জশ-জৌলশে আচ্ছাদিত আমাদের অন্তর। এই সময়ে খাঁটি ঈমানের কথা বললে ধুয়ে ফেলা হবে আপনাকে!

আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর আজাব-গজব দেন আল্লাহর দিকে ফিরে আসার জন্য। মানুষ যখন গুনাহে সীমালংঘন করে, তখন আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ্য হিসেবেও নেমে আসতে পারে কোনো মহামারী।

মুমিনের শান্তি মসজিদে। আল্লাহর কাছে রোনাজারি ও তওবা-ইস্তেগফার করবেন তারা। এজন্য মসজিদ উপযুক্ত জায়গা। বলবেন এটা তো ঘরে বসেও করা যায়। হ্যাঁ যায়, কিন্তু মসজিদের খুশুখুজু ঘরে বসে হয় না। গত জুমায় টিভি সাক্ষাতকারে বাইতুল মোকররমের বাহিরে নামায আদায় করা একজন সাধারণ মুসুল্লীর কান্না দেখেছেন? কেউ কেউ অতি বুজুর্গী বলে হয়তো উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু ঐ মুসুল্লীর হৃদয়ে আল্লাহপ্রেমের ব্যকূলতা সবাই উপলব্ধি করতে পারে না।

মহামারিতে যখন আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সময়, সেই মুহূর্তে নামাযীদের জন্য আল্লাহর ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হলো! আল্লাহ বান্দাকে তাঁর দিকে ডাকছেন, আর বান্দা আল্লাহর দরবারে হাজিরা দিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে! কেন? মসজিদে বেশি মুসুল্লী একত্র হলে করোনা ছড়াবে! আল্লাহ কি এতোই নিষ্ঠুর? আমরা তাঁর ঘরে যাবো আর তিনি ছুড়ে ফেলবেন! তাঁর ওপর আমাদের আস্থা-ভরসা নাই? বরং মা-বাবা থেকেও হাজার-কোটিগুণ নির্ভরতার জায়গা আমার আল্লাহ।

কাঁচা বাজারের জন্য নির্দিষ্ট সময় আছে। মুদী বাজারের জন্যও নির্দিষ্ট সময় আছে। নির্দিষ্ট সময় আছে মাছ বাজারের জন্যও। ব্যাংকের জন্য আছে আলাদা সময়। ওষুধের দোকান সারাদিন। বাজারভর্তি মানুষ! শুধু মসজিদের জন্য আলাদা সময় নেই! মসজিদ বন্ধ। নামায পড়বে ৫জন! এর বেশি হলে ইমাম গ্রেফতার! রোগ দেওয়ার এবং নেওয়ার মালিক যে আল্লাহ সেটাই যেনো ভুলে গিয়েছি আমরা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে যে নিয়মে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে, সেই নিয়মে মসজিদে জামাতের সময় কেনো দেওয়া যাবে না? নামাযের জামাত কি নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয় নয়? হতে পারে আল্লাহ এজন্য আমাদের ক্ষমাও করে দিতে পারেন। পাঁচ ওয়াক্ত নির্দিষ্ট সময়ে সবাই মসজিদে যাবে, মসজিদে ঢোকার আগে গেটে হ্যান্ড সেনিটেশন দিয়ে হাতের জীবাণু মুক্ত করে নেবে, মাস্ক থাকবে, আরও যতো নিয়ম আছে সেগুলো মেনে মসজিদে গেলে কী অসুবিধা?

যুক্তি দেওয়া হচ্ছে— মক্কা-মদীনা বন্ধ হলে বাংলাদেশে কেন নয়? বোঝাতে চায় বাংলাদেশে কুরআন-হাদীস নাই, শরীয়তের দলীল নাই, দলীল হয়ে দাঁড়িয়েছে মক্কা-মদীনা!

ঘরে নামায পড়লেও অসুবিধা নাই, কথা সত্য। কিন্তু আমরা কি সেই ঈমানে বলিয়ান, যেই ঈমান শূলের চূড়ায়ও টলে না! ঘরে সুন্নাতসহ নফল নামাযগুলো পড়া যায়। তাই বলে নিয়মিত ফরজ নামায পড়ার পরিবেশ ঘরে থাকার কথা নয়। মসজিদে জামাত সীমিত করায় অনেকেই ঘরে নামায পড়ে না। এটা আরও বড় মহামারী!

মসজিদের দরজা খুলে দেওয়া হোক! নির্দিষ্ট করে দেওয়া হোক নামাযের সময়! এটা বান্দার হক নয় যে বান্দা বন্ধ করে দেবে। এটা আল্লাহর হক! পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে না হলেও অন্তত জুমার জন্য মসজিদ উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক! হাজার হাজার মুসুল্লী রোনাজারি করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করবেন। হয়তো আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার দেশ। মতামত ব্যক্ত করেছি। হৃদয়ের আকুলতা সামান্য প্রকাশ করেছি। এই লেখা পড়ে হয়ত ইসলামী সেকুলাররা একা একা হাসবে, কেউ তাচ্ছিল্য করবে, কেউ বলবে ন্যাকামো! তবে যে যাই বলুক, আমি আমার কথা বলেছি। আমার হৃদয়ের কথা আমি শুনতে পাই। শোনেন আমার মা’বূদও। অতএব কে কী বললো দেখার সময় নাই।

সব খবর সবার আগে পেতে গ্রুপে জয়েন করুন 

cover photo, No photo description available.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102