বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

মহামারি, অর্থনীতি এবং উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক জীবন কেমন দেখুন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ৭৬ Time View

কয়েকদিন ধরে কয়েকটা ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলিতে ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজস্থান, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের যে শ্রমিক কাজের খোঁজে মুম্বই-দিল্লির মতো শহরগুলিতে গিয়েছিলেন, তাঁরা পায়ে হেঁটে তিন-চারদিন ধরে হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে বাড়ির পথে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। করোনা  রুখতে মাত্র ঘণ্টা চারেকের নোটিশে ভারতের মতো এত বিশাল একটা দেশকে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। এঁরা বাড়ি ফেরার ট্রেন, বাস বা অন্য কোনও যানবাহনের ব্যবস্থা করে উঠতে পারেননি। এই লকডাউন এবং আতঙ্কের পরিবেশে পথে কোনও খাবার এবং বিশ্রাম করার আশ্রয় তাঁরা পাননি। উপরি পাওনা পুলিশি হেনস্তা। দিল্লির বিভিন্ন রেল স্টেশনগুলিতে হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ট্রেনের অভাবে আটকে ছিলেন।

ফেইসবুক থেকে ইনকাম করুন !

এই ছবিগুলি নেটিজেনদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল। মোটামুটি সবাই এই গল্পের শুধু একটা দিক নিয়ে কথা বলছেন। যেমন, ভারতীয় মহানগরগুলি এই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য কতটা নিরাপদ, নব্য-উদারপন্থী শহরকেন্দ্রিক এই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা শ্রমিক শ্রেণিকে কী কী উপায়ে কী পরিমাণ শোষণ করছে, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই শ্রমিকদের হিতে ঠিক কী ধরনের কল্যাণমূলক এবং সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছেন ইত্যাদি। এই প্রশ্নগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাসঙ্গিক। অন্যদিকে, এই কথাগুলি ভীষণভাবে শহরকেন্দ্রিক। এই নব্য-উদারপন্থী যুগে দাঁড়িয়ে আমরা দ্রুত নগরায়ণকে আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নযনশীল দেশগুলির একমাত্র ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বীজমন্ত্র হিসেবে গণ্য করেছি। তাই গ্রাম থেকে সব রাস্তা শহরে গিয়ে শেষ হয়েছে, যা আর কোনওদিন গ্রামে ফিরে আসেনি। ঠিক এখানে শুরু হয় এই গল্পের দ্বিতীয় পর্ব।

এই শ্রমিকরা কারা? কোথা থেকে এই শ্রমিকরা এসেছেন? এদের আদি বাসস্থান যেখানে, সেই জায়গার অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা বা কেমন? এরা বাড়ি ফিরে গেলে এদের সঙ্গে সমাজ ঠিক কীরকম আচরণ করবে? এই প্রশ্নগুলির উত্তর ভারতের গ্রামগুলির ছবি সঠিকভাবে জনসমক্ষে তুলে আনবে। এই উত্তরগুলি খুঁজতে গিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও কিছুটা আলোকপাত করা যাক। কারণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা রাজনীতি এবং অর্থনীতি এই দুইয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

উত্তরবঙ্গ গঙ্গানদীর উত্তরপাড়ের আটটি জেলা নিয়ে তৈরি পশ্চিমবঙ্গের এক প্রান্তিক অঞ্চল। মূলত, তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, সংখ্যালঘু এবং সমাজের অন্যান্য পিছিয়ে পড়া মানুষজনের বসবাস। বড় বা ভারী কোনও যন্ত্র-কারখানা নির্ভর শিল্প এখানে প্রায় নেই বললেই চলে। অর্থনীতি পুরোপুরিভাবে কৃষিনির্ভর। গত এক দশকে সারা দেশের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের চাষিদের করুণ পরিস্থিতির কথা আর নতুন করে বলার অবকাশ এই প্রবন্ধে নেই। উত্তর বাংলার অর্থনীতির আরেকটা স্তম্ভ হল চা বাগান। বিশ্বায়নের ধাক্কায় এবং অন্যান্য নানাবিধ কারণে এই চা বাগানগুলি হয় বন্ধ, নতুবা রুগ্ন অবস্থায় ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে।

ফেইসবুক থেকে ইনকাম করুন !

সংবাদপত্র খুললেই দেখা যায় এই চা বাগানগুলিতে প্রতি বছর বহু মানুষ অপুষ্টি এবং চিকিত্সার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন। উত্তরের অর্থনীতির এই ত্রিমুখী সংকট নতুন প্রজন্মের হাতে জীবনধারণের জন্য যথেষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে পারেনি। ফলস্বরূপ, উত্তরের এই চা বাগান আর গ্রামগুলি থেকে হাজার হাজার মানুষ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের শহরগুলিতে জীবিকার খোঁজে পাড়ি জমিয়েছেন। উত্তরবঙ্গে এমন অনেক গ্রাম আছে, যেখানে কোনও যুবক নেই, মহিলা এবং বয়স্কদের বাড়িতে একা ফেলে তাঁরা ভিনরাজ্যে কাজের সন্ধানে গিয়েছেন।

আমাদের পাবলিক হেলথ এবং সোশ্যাল মেডিসিনের একটা গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হচ্ছে পলিটিক্যাল ইকনমি অফ হেলথ অ্যান্ড ডিজিজ। এই তত্ত্বের মূল কথাটি হল, প্রতিটি অসুখ এবং মহামারির একটা আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট থাকে। একটা এলাকায় মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি কেমন হবে এবং একটি বিশেষ রোগ ঠিক কতটা মহামারির আকার ধারণ করবে, তা নির্ভর করে সেই এলাকার আর্থসামাজিক এবং রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর।

ঠিক যে কারণে যক্ষ্মা বা টিবির মতো রোগের প্রাধান্য সমাজের আর্থসামাজিক মাপকাঠিতে পিছিয়ে পড়া মানুষজনের মধ্যে তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ উত্তরবঙ্গে ঠিক কতটা মহামারির আকার ধারণ করতে পারে, তা যেমন নির্ভর করছে এখানকার আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর, তেমনই সমানভাবে নির্ভর করে এই অঞ্চলের পাবলিক হেলথ সিস্টেমের ওপর।

লকডাউনে মালিকগোষ্ঠী চা বাগানগুলি আপাতত কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখছে। কিন্তু এই বন্ধ পুরো লকডাউন জুড়ে থাকবে কিনা, তা নিয়ে কোনও পরিষ্কার নির্দেশ দেয়নি। তেমনই এই বন্ধের সময় শ্রমিকদের মজুরি বা কোনওপ্রকার ভাতা মালিকপক্ষ দেবে কিনা, সেটা নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। এই পরিস্থিতিতে সরকারপক্ষের আরও অনেক বেশি সদর্থক এবং সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ এই লড়াইটা শুধু একা ভাইরাসের সঙ্গে নয়, এই লড়াইটা খিদের সঙ্গে। যে লড়াই সারাদিন ঘরে বন্দি থেকে বিকালবেলা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে শুধু থালাবাটি বাজিয়ে জেতা যাবে না।

ফেইসবুক থেকে ইনকাম করুন !

চলুন ফিরে আসি, উত্তরবঙ্গে স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং সেই শ্রমিকদের কথায়, যাঁরা বাড়ি ফিরে আসতে পেরেছেন। উত্তরবঙ্গের গ্রামগুলি এখন এই ভিনরাজ্য থেকে বাড়ি ফিরে আসা শ্রমিকে ভরে গিয়েছে। অনেকে ভয় পাচ্ছেন যেহেতু এই শ্রমিকরা কেরল বা মহারাষ্ট্রের মতো উচ্চ করোনা সংক্রামিত রাজ্য থেকে ফিরে এসেছেন তাই এঁরা গ্রামগুলিতে সংক্রমণের হার অনেক বাড়িয়ে তুলতে পারেন। দীর্ঘদিন পরে বাড়ি ফিরে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই গ্রামের চেনা-পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করতে বেরিয়ে পড়ছেন।

অন্যদিকে, অনেকের ঘরেই এতদিনের চালানোর মতো মজুত খাবার বা টাকা কোনওটা নেই। এই গরিব মানুষগুলির ঘরে থাকার কথাও নয়। মৃত্যু-আশঙ্কা এবং পুলিশের লাঠির ভয় মাথায় নিয়ে এঁরা রাস্তায় বেরিয়েছেন শুধুমাত্র দু-মুঠো খাবার জোগাড় করার জন্য। আর একশ্রেণির মানুষ এঁদের দেখে ভয়ে কুঁকড়ে উঠছেন। পুলিশ এই পরিযায়ী শ্রমিকদের খুঁজতে গ্রামে আসছে। অনেকে পুলিশের ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।

এই পরিযায়ী শ্রমিকদের পরীক্ষা করার মতো পরিকাঠামো উত্তরের জেলাগুলিতে নেই। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে যে করোনা পরীক্ষা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে সেটা আটটি জেলার জন্য অপর্যাপ্ত। উত্তরবঙ্গ যে শুধু অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে আছে, তা নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও উত্তরবঙ্গ এক প্রান্তিক এবং বলা চলে অবহেলিত অঞ্চল। ঠিক এই কারণে হয়তো উত্তরবঙ্গের মানুষের আন্দোলনের ফসল এইমস হাসপাতাল রাতারাতি রায়গঞ্জ থেকে দক্ষিণবঙ্গের কল্যাণীতে চলে যায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য দপ্তরের ওযেসাইটে একটু চোখ রাখলে দেখা যাবে যে, রাজ্যের অন্যান্য অংশের তুলনায় উত্তরবঙ্গের জনসংখ্যার সঙ্গে হাসপাতালে বেড, ডাক্তার এবং নার্সের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

শুধু তাই নয়, এই অঞ্চলে মোট প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামীণ হাসপাতাল, অন্যান্য টার্সিয়ারি এবং সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সংখ্যাও অনেক কম। উত্তরবঙ্গের হাসপাতালগুলিতে বছরের সাধারণ সময়ে তিলধারণের জায়গা থাকে না। মহামারির সময় কী পরিস্থিতি হবে, তা বুঝতে বিশাল দূরদর্শী হওয়ার প্রয়োজন নেই। কাজেই এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি এবং হেলথ সার্ভিস সিস্টেম সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ নজর না দিলে করোনা অথবা ভবিষ্যতে অন্য কোনও মহামারি শুধুমাত্র লকডাউন এবং পুলিশের লাঠি দিয়ে দমানো যাবে না।

যাঁরা বাড়ি ফিরে আসতে পারেননি বা এখনও পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছেন, তাঁদের পরিবার-পরিজন মনে একরাশ অজানা আশঙ্কা নিয়ে পথ চেয়ে বসে আছেন। বড় দীর্ঘ এই প্রতীক্ষা। তাঁদের সবার চোখে অনেক প্রশ্ন। বড় বড় বাবুদের উড়োজাহাজে চেপে বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে আসার ব্যবস্থা এত সুচারুভাবে হয়ে গেলেও, এই গরিব মানুষগুলি ও তাঁদের ছেলেপুলেদের কপালে একটা বাসও জুটল না কেন? সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষ ব্যবসা, পড়াশোনা, ফুর্তি করতে গিয়ে যে রোগ লন্ডন-ইতালি-চিন থেকে বাড়ি বয়ে আনলেন, তার দাম সমাজের নীচুতলার মানুষদের এভাবে দিতে হচ্ছে কেন?

ফেইসবুক থেকে ইনকাম করুন !

(লেখক আইআইটি গুয়াহাটিতে পাবলিক হেলথ এবং সোশ্যাল মেডিসিনের গবেষক)

শেয়ার করুন

 

করোনা আক্রান্তের প্রধান ১০টি লক্ষণ

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বিপদজনক হারে। ফলে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। চার মাস আগে আবিষ্কৃত জীবননাশক এই ভাইরাসটি সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিদিন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102