সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০১:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার এ মাসের শেষের দিকে হতে পারে চট্টগ্রাম (চসিক) ভোট খুলনার বটিয়াঘাটায় শিশু হত্যাঃ আটক ২ ডিসেম্বরের প্রথম দিন মুক্তিযোদ্ধাদের ভালো বাসায় সিক্ত হলেন – এমপি শাওন খুলনায় বিশ্ব এইডস দিবস পালিত সৌদি আরবে এখনো টিকে আছে মুসা আ: এর স্মৃতি বিজরিত কূপ ও বাড়ি কর্ণফুলীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু লালমোহনে সামাজিক বিবাদে প্রাথমিক বি. শিক্ষকের উপর আক্রমণ প্রতিবাদ জানান জেলা শিক্ষক সমিতি

ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের চক্রান্ত তৌহিদী জনতা রুখে দেবে -মুফতি ফয়জুল করীম

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩০ Time View

রবিউল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেছেন, ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের চক্রান্ত তৌহিদী জনতা রুখে দেবে। রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে মূর্তি স্থাপনের অপিরণামদর্শি সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসতে হবে। যে দেশে লাখ লাখ মানুষ অনাহারে, অর্ধাহারে, বিনা চিকিৎসায় মারা যায়, সেদেশে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা খরচে মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত সুফল বয়ে আনবে না। অবিলম্বে মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।
আজ শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর ধোলাইপাড়ে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপনের পরিবর্তে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর রূহের মাগফিরাত কামনায় আল্লাহর ৯৯ নাম অঙ্কিত স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের দাবিতে তৌহিদী জনতা ঐক্য পরিষদ আয়োজিত বিশাল জনসমূদ্রে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণসমাবেশ ধোলাইপাড়ে হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনের বাধার কারণে ধুপখোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। গণসমাবেশ একপর্যায়ে জনসমূদ্রে রূপ নেয়। বাদ জুমা সমাবেশের কথা থাকলেও সকাল থেকেই জনস্রত ধুপখোলা মাঠের দিকে চলতে থাকে। জায়গায় জায়গায় প্রশাসনের বাধার মুখে পড়ে সমাবেশে আগত তৌহিদী জনতার মিছিল। বিভিন্ন জায়গায় সরকার দলীয় লোকজনের বাধার মুখে পড়ে তৌহিদী জনতা। এত বাধার মধ্যেও তৌহিদী জনতা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সফল করে ধৈর্যের পরিচয় দেয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আল্লামা আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর, চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শাহ আব্দুল আউয়াল, আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, বাইতুন নূর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতী মনিরুজ্জামান, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, প্রকৌশলী আশরাফুল আলম, মূফতী নূর হোসাইন নূরানী, মুফতী হাবিবুর রহমান মিসবাহ, কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, মাওলানা হাসান বিন বাশার, ছাত্রনেতা এম হাছিবুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল আজিজ, মাওলানা আব্দুল আলিম সাইফী, মুফতী আফজাল হোসাইন রাব্বানী,বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা গোলাম সারওয়ার ফরিদী, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মুফতী ওমর ফারুক, মুফতী মাসুম বিল্লাহ, হাজী শাহাদাত হোসাইন,মাওলানা আশরাফ আলী নূরী প্রমুখ।
মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, দাবি আদায়ের জন্য রক্ত দেয়ার প্রয়োজন হলে তৌহিদী জনতা জীবন ও রক্ত দিতে প্রস্তুত। আমরা সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি। মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তৌহিদী জনতার আন্দোলন চলবে। সরকার যদি ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন থেকে সরে না আসে, তাহলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
আব্দুল হামিদ পীর সাহেব মধুপুর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাথে ওলামায়ে কেরাম বার বার সাক্ষাতে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যকলাপ না হয়, সে ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে শীর্ষ ওলামাদের মতামতকে উপেক্ষা করলে তার খেসারত সরকারকে দিতে হবে।
মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের এদেশে ইসলামবিরোধী সংস্কৃতি মূর্তি স্থাপন কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। মূর্তি মুসলমানি কোন সংস্কৃতি নয়, এটা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। মূর্তির বিরুদ্ধে মুসলমানরা একমত। মূর্তি স্থাপনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনতা রাজপথে নেমে আসবে। মুসলমানরা কারো রক্ত চক্ষুকে ভয় করে না।
মাওলানা শাহ আবদুল আউয়াল বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান ইসলামের জন্য অনেক অবদান রেখেছেন। তার স্মরণে মূর্তি নির্মাণ করে তার আত্মাকে কষ্ট দেবেন না। শেখ মুজিবকে যারা ভালবাসেন তারা এ মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেন না। তার স্মৃতির জন্য এমন কিছু করুন, যাতে পরকালে তিনি শান্তি পান।
মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, সরকার দলীয় ক্যাডাররা আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে বানচালের অপচেষ্টা করেছে। আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু এ সরলতাকে দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবেন। সোজা আঙ্গুলে ঘি না উঠলে আঙ্গুল বাঁকা করতে বাধ্য হবো।
সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, মূর্তি বা ভাস্কর্য মুসলমানের কোন সংস্কৃতি নয়, এটা বিজাতীয় বা হিন্দুয়ানী সংস্কৃতি। যুগে যুগে সকল নবী ও রাসূলগণ মূর্তি ধ্বংস করে একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে দুনিয়ায় এসেছিলেন। কাজেই মুসলমানরা এধরণের কোন সংস্কৃতি লালন করতে পারে না।
ভাস্কর্য স্থাপন না করে কোরআন খচিত স্তম্ভ, মিনার খচিত স্তম্ভ, আল্লাহর নিরানব্বই নাম সম্বলিত মিনার ইত্যাদি স্থাপনের দাবি জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

আমাদের সম্পর্কে

Muslim Voice
মুসলিম উম্মাহর সকল সংবাদ নিয়ে আমাদের আয়োজন।
পড়ুন, লিখুন, সংবাদ দিন।
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102