বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

ভারত বাঙলাদেশ সম্পর্কের জটিল রসায়ন

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৩৪১ Time View

লেখক,জশিম মুহাম্মদ রুশনী : দায়িত্বসচেতন ও সহমর্মী প্রতিবেশী পাওয়ার সৌভাগ্য কী সবার হয়? এটা যেমন সমাজজীবনে, তেমন -ই প্রয়োজন জাতীয় আর আন্তর্জাতিক পর্যায়েও। আধুনিক বিশ্বে এই “প্রতিবেশী রাষ্ট্র” বিষয়টা আরও বেশি গুরুত্ববহ।

ভারত কী কখনও বাঙলাদেশের বন্ধু ছিলো? আমি মনে করি না তা। ভারত নামের রাষ্ট্রটি পৃথিবীর বুকে বৃহত্তর বহুজাতিক রাষ্ট্র বটে, তবে দেশটি কখনওই কোনও রাষ্ট্রের বন্ধু ছিলো না। ওরা বরাবর -ই দাদাগিরি করেছে ছোট দেশগুলোর সাথে আর বড় দেশগুলোর সাথে করেছে কেবল বাণিজ্য। বাঙলাদেশকে ওদের একচেটিয়া বাজার বানানোর উদগ্র খায়েশ সেই প্রথম থেকেই।

বাঙলাদেশ ভারত সম্পর্কে একটা উষ্ণতা ছিলো একসময়, তবে সেটাকে ঠিক রাষ্ট্রিক সম্পর্ক বলা যাবে কি না প্রশ্ন আছে। আমি সেটাকে ভারতের একটি উদার ও অগ্রসর রাজনৈতিক দলের সাথে বাঙলাদেশের একটি প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের সখ্যতা হিসেবেই দেখতে চাই। বিস্তারিত বলছি –

স্বাধীন বাঙলাদেশের অভ্যুদয়ের সময় ভারতের ক্ষমতা ছিলো কংগ্রেসের হাতে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু’র রক্ত ও আদর্শের উত্তরসূরী শ্রীমতি ইন্দিরা তখন কংগ্রেস ও ভারতের হর্তাকর্তা। কংগ্রেসের আপাতঃ অসাম্প্রদায়িক আদর্শের সাথে মৌলিক অসাম্প্রদায়িক চেতনার দল আওয়ামী লীগের ছিলো যথেষ্ট মিল। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু’র মতো ক্যারিশমাটিক বিশ্বনেতা তখন আওয়ামী লীগ ও বাঙলাদেশের প্রাণ। সঙ্গতঃ কারণেই আওয়ামী লীগ ও কংগ্রেস তখন উপমহাদেশের প্রাগ্রসর রাজদূর্গ।

উপমহাদেশের দু’টি প্রাগ্রসর রাজদূর্গ একে অন্যকে সমীহ করতো। একদিকে ইন্দিরা অন্যািকে মুজিব, এই দুই ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বের অনন্যতা তখন আকাশচুম্বী। নেতা তো নন, যেন যুগশ্রেষ্ঠ একটি রাজমানিকজোড়। আর সেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা সমীহের অবস্থানে থেকে শ্রীমতি ইন্দিরার পক্ষে বঙ্গবন্ধু মুজিবকে এড়িয়ে চলার সুযোগ যেমন ছিলো না, তেমন -ই বঙ্গবন্ধুরও ছিলো না অস্বীকারের সুযোগ। সেই সুবাদে বৃহত্তর একটি রাষ্ট্রের সাথে নূতন এই জাতিরাষ্ট্রের অর্থবহ সখ্যতা গড়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিনবছর ক্ষমতায় ছিলেন। সেই সাড়ে তিনবছরের সময়টাতে বাঙলাদেশ ভারতের সমীহ পেয়েছে। ভারতও ইজ্জত পেয়েছে। অনেক অর্থবহ দ্বি -পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু বাঙলাদেশের জনকের মর্মান্তিক বিদায়ের পর সেটা টিকে থাকেনি। ইন্দিরাও বেঁচে থাকেননি। ভারতেও আসে ক্ষমতার পালা পরিবর্তন।

ভারতে ক্ষমতায় আসলো প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। বাঙলাদেশে আসলো প্রতিবিপ্লবী চক্র। প্রতিবিপ্লবী চক্রের সাথে চীন – মার্কিন লবি আর ভারতের প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর সাথে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিকদের সখ্যতা। ভারত বাঙলাদেশের ভূ -রাজনৈতিক চিত্রটাই পাল্টে গেলো।

ইন্দিরা পরবর্তী সময়ের ভারতে কংগ্রেসও ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু বাঙলাদেশ তখন আওয়ামী বৈরী। তাই পুরনো সম্পর্কটায় নূতন কোনও ঝালাই চলেনি। বাণিজ্যিক ও চটকদার আঞ্চলিক রাজনীতির বিভিন্ন জোটে একসাথে থাকার পরও অর্থবহ কোনও ইঙ্গিত আসেনি কোনও পক্ষ থেকেই।

গঙ্গা যমুনায় বয়ে গেছে অনেক স্রোত। ভারতে ক্ষমতায় এসেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। বাঙলাদেশে আসে স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্ব দানকারী দল আওয়ামী লীগ। কিন্তু ব্যাটে বলে আর হয় না। ভারতের অধঃপতন আর বাঙলাদেশে আওয়ামী লীগের উল্টোযাত্রা। দু’য়ে মিলে একটা বিচিত্র দৃশ্য উপ -মহাদেশে।

বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিলো কংগ্রেসের সাথে আওয়ামী লীগের, ভারতের সাথে বাঙলাদেশের নয়। ভারতকে বাঙলাদেশের “বন্ধু” বলার যে প্রবণতা আজকের বাঙলাদেশিরা দেখায়, তারা নিতান্তই কূটনৈতিক বন্ধ্যা। ইতিহাস বলছে – ইন্দিরা ও মুজিব পরবর্তী সময়গুলোতে বাঙলাদেশ ভারত একবারের জন্যও আর বন্ধুত্বের বাতাবরনে মিলিত হয়নি।

(জসিম মুহাম্মদ রুশনী // শিক্ষক, কবি ও কলামিস্ট)

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102