মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

বিলুপ্তির পথে উড়ুন আর গাইন দ্বারা ধান ভানার শব্দ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৩১ Time View

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: রুপসী গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য আজ হারাতে বসেছে। কিছুদিন আগেও গ্রামবাংলার প্রতিটি পরিবারের মা ও বোনদের উড়ুন আর গাইন দ্বারা ধানে পাড় দিয়ে ধান ভানতো। কিন্তু সেই ধান ভানার প্রচলন আর নেই বললেই চলে।

দিন দিন সেই প্রচলন উঠে যাচ্ছে রুপসী গ্রামবাংলা থেকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মা ও বোনদের সেই ধান ভানার মনোরম দৃশ্য আর চোখে পড়ে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আর বর্তমানে যান্ত্রিকতার যুগে সেই চিরচেনা মনোমুগ্ধকর দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে।

কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত প্রায় গ্রামবাংলার ঐতিয্য এই শিল্পটি। এক সময় কুড়িগ্রাম জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে ছিল উড়ুন আর গাইন কিন্তু এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র ও অসহায় মা-বোনদেরও এক সময়ের উপার্জনেরও উৎস ছিল এই উড়ুন আর গাইন। অনেক মা-বোনরা অন্যের বাড়ীতে ধান ভেনে উপার্জন করে সংসার চালাতো। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিত্তবানদের ঘরে যখন ধান উঠতো তখন দরিদ্র, অসহায় মা-বোনেরা তাদের ধান ভানতো তখন আয়-উপার্জনও ভালো হতো। বর্তমানে উড়ুন ও গাইনের পরিবর্তনে চালু হয়েছে আধুনিক ধান ভানার রাইচ মিল।

বাংলাদেশের যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌছায়নি সেসব জায়গাতেও ডিজেল চালিত মেশিন ছাড়াও ভ্যান গাড়িতে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে ধান ভানে। যার কারণে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলের সেসব দরিদ্র ও অসহায় মা-বোনরা উড়ুন আর গাইন দ্বারা ধান ভানে জীবিকা নির্বাহ করতেন বর্তমানে তারাও এই পেশা ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় চলে গেছে।

ধান ভানা ছাড়াও উড়ুন গাইন এর সাথে ছিল গ্রামীণ জীবন যাপনের নিবিড় সম্পর্ক। গ্রামের কোন বাড়ীতে বিয়ের আয়োজন হলে আগেই আসতো উড়ুন আর গাইনের নাম। বর ও বধুর গায়ে হলুদের জন্য হলুদ বাটা হত এই উড়ুন-গাইন দিয়ে। উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়নে বানানো হত রকমারি পিঠা-পুলি। আর পিঠা তৈরির মুল উপাদান আটা ভানা হত উড়ুন-গাইন দিয়ে। চিড়া, হলুদ, মরিচ, ধনিয়া ও মসলা গুড়ো করার কাজে ব্যবহার করা হত উড়ুন-গাইন। চাল, গম, ভুট্রা গুড়ো করে তৈরিকরা হত ছাতু তাছাড়া উড়ুন-গাইন দিয়ে বানানো হত গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খাবার শিদল।

সভ্যতার ক্রম বিকাশ আর যান্ত্রিকতার কল্যাণে বর্তমানে প্যাকেটজাত প্রায় সব কিছুই বাজারে পাওয়া যায়। ফলে সকলের অগোচরে অনেকটা চুপিসারে বিলুপ্ত প্রায় উড়ুন-গাইন।

তাছাড়া অনেকের মতে- আধুনিক যুগের মডার্ন গৃহবধূরা উড়ুন-গাইন ব্যবহার করাকে ঝামেলার কাজ মনে করায় এটি বিলুপ্ত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102