আলমগীর ইসলামাবাদী, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : এতিমের কোটি কোটি টাকা সিন্ডিকেট করে লুটপাট!
আন্দরকিল্লা ইসলামী ব্যাংকে বাঁশখালী জলদী মখজনুল উলুম মাদরাসার “ওয়াকফে ইসলামী” নামে একটি একাউন্ট আছে। ওই একাউন্টে প্রতি বছর সৌদি আরবের দাতা সংস্থা ৬ শত এতিমের ভরণ পোষণ বাবদ ১ কোটি টাকা করে পাঠান। বিনা তদবীরেই ওই টাকা মাদরাসার একাউন্টে চলে আসে। মাওলানা আবদুস সোববহান সাহেব বছরের পর বছর সৌদি আরব সফর করে এই ব্যবস্থা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রায় ৩০ বছর যাবত আসছে এই টাকা। কিন্তু মাওলানা আবদুস সোবহান অসুস্থ হয়ে গেলে এই টাকা প্রথমে মেয়ে হাবিবা উত্তোলন করেন। পরে আল্লামা শফির পুত্র মাওলানা আনাস মাদানীর যোগসাজশে ইসলামী ব্যাংকের আন্দরকিল্লা শাখা থেকে পুত্র মাওলানা আবদুর রহমান এই টাকা তোলেন। টাকার ভাগ আনাস মাদানী ছাড়াও হেফাজত নেতা রুহী, মুফতি ফয়জুল্লাহসহ আরো অনেকের পকেটে যায় বলে জানা গেছে। মাদরাসা ও এতিমখানার টাকায় আবদুর রহমান ও পরিবারের সদস্যরা বিলাসী জীবন যাপন করেন। আবদুর রহমান চট্টগ্রাম শহরে আলীশান বাসা নেয়ার পাশাপাশি প্রাইভেট গাড়ীও খরিদ করেন। হেফাজতের রুহি ও আনাস মাদানী অংশের নেতাদের আনাগোনা ছিল শহরের সেই বাসা এবং বাঁশখালী জলদী মাদরাসায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে ৬০০ এতিমের জন্য এত বিপুল পরিমাণ টাকা এলেও জলদী মাদরাসায় বিগত ১০/১২ বছর ধরে এতিমতো দুরের কথা সাধারণ ছাত্র পযর্ন্ত নেই। বর্তমানেও ছাত্র শিক্ষক স্টাফ মিলিয়ে পুরো মাদরাসায় একশ জন সদস্য আছে কিনা সন্দেহ। মাদরাসার বিশাল বিশাল ভবন পড়ে আছে বিরাণ ভূমি হিসেবে। জানা গেছে, বিগত ১৪ বছর যাবত এতিমদের কোন সুযোগ সুবিধা দেয়া হচ্ছেনা এই মাদরাসায়। গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক পদ থেকে আল্লামা শাহ আহমদ শফির পদত্যাগ এবং পুত্র আনাস মাদানীকে বহিস্কারের পর বাঁশখালীর জলদী মাদরাসা নিয়ে আনাস মাদানী সিন্ডিকেটের নানা অপকর্ম ও দুর্নীতি এখন মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে। এই বিষয়ে মাদরাসার একাউন্টগুলো জব্দসহ তদন্ত পুর্বক ব্যবস্থা নিতে এলাকাবাসী হাটহাজারী মাদরাসার নবগঠিত শুরার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।