নাগরপুরে ড্রাগন ফল চাষে সফল প্রবাসী মামুনুর রশিদ

ডা.এম.এ.মান্নান, স্টার্ফ রির্পোটার: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিদেশী ফল ড্রাগন চাষে সফল হয়েছেন মোঃ মামুনুর রশিদ নামের এক প্রবাসী। তিনি উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের নুরুল হকের ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ তিনি কানাডায় আছেন। প্রবাস থেকে পাঠানো অর্থায়নে আমিনুর রহমান নামের কেয়ারটেকারে পরিচর্চায় গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান এবং এইচএন এগ্রিকালচার নার্সারী। তার মধ্যে বিদেশী ফল ড্রাগন ইতোমধ্যে উপজেলাসহ আশে পাশের উপজেলাতেও এর চাহিদা মিটিয়ে চলেছে দুই বছর ধরে। এবছরও ড্রাগনের বাম্পার ফলন হবে আশা করছেন তিনি। তবে দেশের চাষিদের কাছে ড্রাগন ফল এখনো তেমন পরিচিত নয়। এ উপজেলায় প্রথম ড্রাগন ফল চাষের সুসংবাদ পাওয়া গেল এইচএন এগ্রিকালচার নার্সারীতেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই প্রবাসী উপজেলার পংবাইজোড়া গ্রামের সন্তান। ছয় ভাই ও চার বোনের মধ্যে মামুনুর রশিদ একজন। তিনি এলাকার মানুষদের জন্য টাকটা ফল উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে গড়েছেন বিভিন্ন জাতের ফলের বাগান। তাঁর নিদের্শেই পাইকারী বিক্রি না করে কম দামে দেশের মানুষদের কাছে বিক্রি করছেন ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন জাতের ফল। তার ৭০ শতাংশ জমিতে বিদেশী ফল ড্রাগন গাছ রয়েছে ১০২৪টি। আশাতীত সফলতা পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে কেয়ারটেকার আমিনুরের মুখেও। তবে মোট এ পর্যন্ত কত টাকা খরচ হয়েছে এবং কত টাকার ফল বিক্রি করা হয়েছে তার হিসেব মালিক ছাড়া কেউ জানে না। তবে গাছের সংখ্যা ও ফলন অনুযায়ী গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা হবে পারে বলেও জানা যায়।

আমিনুর রহমান বলেন, মামুনুর রশিদ সাহেবের বাগানে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে কাজ করছি। আমার সাথে আরও ১ জন সহযোগী আছে। বাগানের লাল ড্রাগন ফলের স্বাদ টক, মিষ্টি। এ ফল বাজার জাত করার সময় সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ফরমালিন মুক্ত ভাবে সংরক্ষন করা হয় এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় বাজারে এ ফল কম দামে বেশি বিক্রি করা হয় তবুও যে পরিমাণ লাভ হয় তাতেই সন্তুষ্ট মালিক। ফল ভালো রাখতে কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় না। এখান থেকে ড্রাগন ফল সংগ্রহ করে নাগরপুর, করটিয়া, সাটুরিয়ার বিভিন্ন বাজারে নিয়ে নিজেরাই বিক্রি করি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় তিন বছর আগে চারা রোপন করার ৬ মাস পর থেকেই ফল সংগ্রহ করি। গত তিন বছরে চারা, রোপণ এবং বেড়া তৈরিসহ যে পরিমাণ টাকা মালিক খরচ করেছেন তা মনে হয় খরচ উঠে গেছে। এবছর দিয়ে ৩য় বছর হল ফল আসার পর তা বিক্রি করেছি। কেজি প্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করছি।

বাগান পরিচর্চার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘ড্রাগনের বাগান করতে তেমন কোনো কষ্ট করতে হয় না। তবে জমির চারপাশে এবং উপরে নেট দিয়ে ভালো করে বেড়া তৈরি করতে হয়। যাতে ফল পাকলে পাখিতে নষ্ট না করতে পারে। রোপনের ৬ মাস পর একটি গাছ ফল ধরার জন্য পরিপূর্ণতা লাভ করে। প্রতি বছর একটি গাছ থেকে প্রায় ১০ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া অনাবৃষ্টির সময়ে গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হয়। গাছে ফল এলে ভোমরা ও মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে গেলে বাড়তি নজরদারি করতে হয়।’

তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর যাবৎ কোন কৃষি কর্মকর্তা তার বাগান পরিদর্শন করেনি। যথাযথ নির্দেশনা না পাওয়ায় ফলন কম হচ্ছে, পোকামাকড়ে ফল নষ্ট করছে। যদি কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেতাম তাহলে আরও ভাল ফলন হতো।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বিশ্বাস তার অভিযোগ সত্য নয় বলে আরও জানান, বাগান পরিদর্শনে গিয়ে ফেরত আসতে হয়। ইতোমধ্যে পরিদর্শনে গিয়ে বাগানের গেইট তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। বিশাল বাগানের চারিদিকে পায়ে হেটে পরিদর্শন করা হয়েছে। দায়িত্বরত কাউকেই না পাওয়ায় পরামর্শ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, বিদেশী ফল ড্রাগন চাষের বড় চারা রোপনের ক্ষেত্রে ৬-৮ মাসেই ফল আসতে শুরু করে। প্রথম বছর একটি চারা থেকে প্রায় ৩ কেজি, দ্বিতীয় বছর ৪-৫ কেজি এবং তৃতীয় বছর ৭-৮ কেজি যথাযথ পরিচর্চার মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব। এ ড্রাগন ফলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশের কৃষক। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পূরণে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।