শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে মুসলমানরা আতঙ্কে

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৯
  • ৮৫ Time View

মুসলিম ভয়েস ডেস্ক | যদিও নরেন্দ্র মোদির অধীনে হিন্দু জাতীয়তাবাদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পরেছে, কিন্তু এর শুরু হয়েছিল কয়েক দশক আগেই। ১৯৪৭ সালে ভারত যখন ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে, আধুনিক ভারতের স্থপতি জওহরলাল নেহেরু এমন একটি সংবিধান তৈরি করতে চেয়েছিলেন যা ‘চিন্তাভাবনার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশ, ধর্ম বিশ্বাস এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা’ এবং ‘মর্যাদার সমতা’ রক্ষা করবে। 

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং মুক্ত সংবাদ ম্যাগাজিন হার্ডনিউজের সম্পাদক সঞ্জয় কাপুর সিএনএনকে বলেন ‘নেহেরু এই বিষয়টি সম্পর্কে খুব সচেতন ছিলেন যে ভারতের সমাজ ব্যবস্থা বিচিত্র এবং একমাত্র যে জিনিসটি সবার অধিকার রক্ষা করতে পারে তা হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা।’ এর পরের বছরগুলিতে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি আরও বিমূর্ত হয়ে উঠতে শুরু করে। এমনকি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নেহেরুর নিজের দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসও (আইএনসি) ভোটারদের সমর্থন পেতে ধর্মীয় বিভাজন শুরু করে।

১৯৮০ এর দশকে নেহেরুর কন্যা ইন্দিরা গান্ধী এবং বড় নাতি রাজীব গান্ধী দুজনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তার ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার অব্যাহত রেখেছিলেন। তবে, ইন্দিরা গান্ধীও কর্তৃত্ববাদী নীতিমালা চাপিয়েছিলেন যা ভোটারদের মধ্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং হিন্দু-জাতীয়তাবাদী বিজেপির পক্ষে ক্রমবর্ধমান সমর্থন জাগিয়ে তুলতে শুরু করেছিল। অযোধ্যার ইস্যুটি ছিল বিজেপি’র জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ক্ষেত্র অর্জনের প্রথম ধাপ। এই বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানটি নিয়ে বহুকাল ধরে মতপার্থক্য ছিল যা কেবল স্থানীয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল, তবে বিজেপি চতুরতার সাথে জায়গাটি নিয়ে প্রচারণা শুরু করে ও বিতর্ক আরো বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে, উত্তর প্রদেশের ১৯৯১ সালের রাজ্য নির্বাচনের অর্ধেক আসন তারা সুরক্ষিত করতে সমর্থ হয়।

সে সময়, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিজেপি’র বিরুদ্ধে ধর্মীয় বিভাজন বাড়িয়ে তোলা এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদ জাগিয়ে তোলার অভিযোগ করেছিলেন। একই অভিযোগ এখনও মোদির দলের বিরুদ্ধে নিয়মিত উঠছে। ১৯৯২ সালে, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির জয়ের এক বছর পরে, ডানপন্থী হিন্দু জনতা অযোধ্যাতে ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়েছিল, দেশব্যাপী দাঙ্গা শুরু করেছিল, যার ফলে ২ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল। এটি ছিল ভারতের স্বাধীনতার পর থেকে ঘটা নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক সহিংসতারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

কারও কারও কাছে এটি এমন একটি মুহুর্ত যা ভারতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তিত হয়েছিল। সাংবাদিক সঞ্জয় কাপুর স্মৃতিচারণ করেছিলেন যে, তার কয়েকজন সহকর্মী কীভাবে মসজিদ ধ্বংস হওয়া এবং তার পরবর্তী দাঙ্গার মধ্য দিয়ে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার শেষ পরিণতি দেখেছিলেন। ২০০০ সালে বিভিন্ন দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির পরে, ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেস সমর্থন হারানোর মাধ্যমে বিজেপি’র ক্ষমতায় আসার দ্বার উন্মুক্ত হয়।

২০১৪ সালে, মোদি এবং বিজেপি জাতীয় নির্বাচনে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে, ৩০ বছরের মধ্যে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী প্রথম দল হয়ে উঠে। এটি ছিল ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদের উত্থানের শুরু, ব্রেক্সিট ইস্যুতে যুক্তরাজ্যে ডানপন্থী রাজনীতিবিদদের ক্ষমতায় আসা ও যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকাই প্রথম’ এর মতো জাতীয়তাবাদি প্রচারণার ভারতেই আগে শুরু হয়।

যারা প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক স্বার্থ দেখেতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিলেন, তাদের জন্য মোদি অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের সপ্ন তুলে ধরেছিলেন। তবে ভারতের এই নতুন নেতা ধর্মীয় জাতীয়তাবাদেরও প্রচার শুরু করেন।

মোদির প্রথম মেয়াদে, গরু জবাই বা পাচারে অভিযোগে হিন্দু চরমপন্থী গোষ্ঠী কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা করেছিল – তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল মুসলমান। গরুকে বহু হিন্দু ধর্মাবলম্বী ‘পবিত্র’ বলে বিবেচনা করে। সমালোচকরা বলেছেন, দিল্লিতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সরকারের উপস্থিতি কট্টরপন্থী সমর্থকদের মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংস কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল। যদিও, বিজেপি এমন অভিযোগ তীব্রভাবে অস্বীকার করেছে। সূত্র : ইনকিলাব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102