শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

দরিদ্র ঘরের মেয়ে খাদিজা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক!

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০৪০ Time View

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজে’লার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক মা’দ্রাসা ছাত্রী খাদিজা খাতুন প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।

নিবিড় পল্লী হতে তাঁর উঠে আসার গল্প তুলে আনতে প্রায় ২ঘন্টা কথোপকথন হয় বাবা-মা সহ ছোট বোনের সাথে। ফুলবাড়ীয়া উপজে’লা সদর হতে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রায় ৩০কিলোমিটার অদূরে এনায়েতপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের এনায়েতপুর গ্রামের মহিষেরচালা (মইষের)।

এনায়েতপুর বাজার ভায়া রাজঘাট কাঁচা রাস্তা ঘেঁ’ষে খাদিজার বাড়ী। সাধারণ একটি নিরীহ বাড়ীর মতই এটি। বাড়ীতে টিনসেট ৩টি ঘর। নিরিবিলি পরিবেশ আ’ন্দাজ করতে পেরে দূর থেকে আমরা খেয়াল করলাম বাড়ী থেকে একজন পুরুষ লোক বের হচ্ছে; সহকর্মী এনায়েতুর রহমানের মোটর বাইক থামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- খাদিজার বাড়ী কোনটি।

তিনি আমাদের পরিচয় জেনে বললেন- খাদিজা আমার নাতনী। তাঁর বাবা বাড়ীতে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি (খাদিজার বাবা) জা’নাজা নামাযে গিয়েছেন বলে আমাদের জানালেন। ছবি তোলার কাজটি শেষ করে বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করার ৫মিনটর মাথায় একজন ভদ্র লোক বাই সাইকেল চালিয়ে বাড়ীর ভেতরে প্রবেশ করলেন। আমরা ও তাঁর পরিচয় জানা হল। আমরা জানতে চাইলাম খাদিজার উঠে আসার গল্প।

খাদিজা খাতুনের বাবা মো: রুহুল আমিন, মাতা হালিমা খাতুন, তাঁর ৪ ছেলে, ২ মেয়েসহ ৮ জনের সংসার। ভাই-বোনদের মধ্যে খাদিজা দ্বিতীয়। বড় ছেলে সোহাগ কৃষক, তৃতীয় সন্তান তাসলিমা- ইডেন কলেজের ছাত্রী, চতুর্থ সন্তান আনোয়ার হোসেন মুঞ্জু- এম এম আলী কলেজের অনার্সের ছাত্র, পঞ্চম সন্তান আজহারুল ইসলাম (শা’রীরিক প্র’তিবন্ধি)- চলতি দাখিল পরীক্ষার্থী, তারিকুল ইসলাম- পঞ্চম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। খাদিজা খাতুনের নানার বাড়ী রাজঘাট এলাকায়।

সেই বাড়ীর কাছে এনায়েতপুর ফাজিল (ডিগ্রী) মা’দ্রাসা (রাজঘাট মা’দ্রাসা)। ঐ সময় সেই মা’দ্রাসায় ৪র্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো খাদিজার মামা মোশাররফ। সেই সুবাধে খাদিজার লেখাপড়া শুরু মা’দ্রাসা থেকে। ৮বছর লেখাপড়া শেষে ৮ম শ্রেণীতে উদ্দীপনা পুরস্কার পেয়ে পরীক্ষায় উপজে’লায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে।

মেধাবী ছাত্রীর অভিভাবক হিসেবে পরিচালনা কমিটিতে স্থান হয় খাদিজার বাবা মো: রুহুল আমিনের। দাখিল পরীক্ষায় গো’ল্ডেন ‘এ’ প্লাস অর্জন করেন খাদিজা। ঐ মা’দ্রাসায় আলিমে বিজ্ঞান শাখা না থাকায় তাঁর মেয়েকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ময়মনসিংহে ভর্তি করানোর জন্য চেষ্টা করেন।

কিন্তু মা’দ্রাসা ছাত্রী হওয়ায় তাঁকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত খাদিজা ফুলবাড়ীয়া উপজে’লার আছিম শাহাবুদ্দিন (ডিগ্রী) কলেজে ভর্তি হোন। এ কলেজে খাদিজার মেধার প্র’খরতা দেখে শিক্ষকরা তাঁকে ফ্রি প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা করেন।

কিন্তু সেখানে খাদিজা সহপাঠীদের মাধ্যমে বাঁ’ধাগ্রস্থ হন। বি’ষয়টি স্থানীয় বাসিন্দা ও ফুলবাড়ীয়া পৌরসভা অফিসে কর্মরত হাবিবুর রহমান শাহীনের মাধ্যমে সংশ্লি’ষ্ট অধ্যক্ষের হ’স্তক্ষেপে স্বাভাবিক হয়। আমি (রুহুল আমিন) যখন খাদিজা কে নিয়ে ফুলবাড়ীয়া কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষা দেয়াতে নিয়ে গিয়েছিলাম পরীক্ষকবৃন্দ মৌখিক পরীক্ষায় দীর্ঘ সময় প্রশ্ন করতে থাকেন। আমি দরজায় দাঁ’ড়িয়ে প্রায় আধ ঘন্টা সময় অতিবাহিত করলেও খাদিজা বের হচ্ছে না,

তখন আছিম শাহাবুদ্দিন কলেজের সাদেক স্যার বের হয়ে আমাকে বললেন, যে কোকিলের ডাক সুন্দর, সেই কোকিলের ডাক সবাই শুনতে চায়’ তখন আছিমের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ফুলবাড়ীয়া কলেজের ভা’রপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ (অব.) মো: আব্দুল হাকিম স্যার আমাকে রুমের ভেতর ডেকে নিয়ে বলেন, আমাকে ওয়াদা দিতে হবে তোমার মেয়েকে ঢাকায় কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি করাতে হবে। আমি স্যারকে কথা দিয়েছিলাম।

অবশেষে ঢাকা মৌ’চাক এলাকায় কোচিং সেন্টারে ভর্তির একটি সাইনবোর্ড দেখতে পেয়ে ভেতরে পরিচালকের সাথে কথা হল। আমি উনাকে সাধ্যের (অপারগতা) বি’ষয়টি অবগত করালে, তিনি আমাকে খাদিজার কাগজপত্র দেখানোর কথা বললে, তিনি (পরিচালক) আমাকে বললেন আপনার মেয়েকে ৫হাজার টাকায় ভর্তি করাবো,

তবে আপনার মেয়েকে এ কথাটি বলতে পারবেন না। আমি ১হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা পরে দিব বলে ভর্তি করিয়ে দিলাম। মৌচাক এলাকায় তাঁর (খাদিজা) কাকা হাবিবুর রহমান থাকায় সেখানে থেকে কোচিং চলছিল। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স হলেও চয়েস অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় খাদিজা। গণিতে ভর্তি হয়ে শামসুন্নহার হলে থাকতে শুরু করেন খাদিজা।

লেবু বাগান ও কৃষি কাজ করে প্রথম ও দ্বিতীয় বছর দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা প্রতি মাসে দিতেন বাবা রুহুল আমিন। দ্বিতীয় বছর হতে ব্যাচের সেরা ছাত্রী হিসেবে টিউশনির চাহিদাও বেড়ে যায় খাদিজার। ফলে আর তাকে প্রতি মাসে টাকা দিতে হয়নি। বাবার আশা ছিল আদর্শ শিক্ষক বানানো। মাস্টার্স শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলে উর্ত্তীণ হন খাদিজা। প্রতিদিন খাদিজার সাথে কথা হয় বাবা মা’র।

যেদিন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে যান খাদিজা সে দিন পরীক্ষার হলে প্রবেশের পূর্বে বাবা-মায়ের দোয়া (আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁ’দে ফে’লেন বাবা নিয়েছিলেন। সোনার হরিণ প্রাচ্যের অক্সফোর্ট খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পদে ২ফেব্রুয়ারি/২০১৭ ফলিত গণিত বিভাগে যোগদান করেন খাদিজা।

চোখের পানি মুছতে মুছতে বাবা রুহুল আমিন বলেন আমার আশা পূরণ হয়েছে। প্রথমে আল্লাহর কাছে শু’করিয়া আদায় করে বাবা রুহুল আমিন শিক্ষক, এলাকাবাসীসহ সকলের কাছে কৃ’তজ্ঞতা জানিয়েছেন। নাম দস্ত’খত জানা রুহুল আমিন জানিয়েছেন, তিনি নিয়ত করেছিলেন যদি মেয়ের একটু হেল্প পান তাহলে বাকী সন্তানদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে কোন সময় পিছপা হবেন না তিনি। অবশেষে তার আশা পূরণ হওয়ায় তিনি মহাখুশি। মাতা হালিমা খাতুন জানান, বাড়ীতে আত্নীয় স্বজনের আনা-গোনা বেড়ে গেছে।

বাড়ীতে অনেকে এসে বলে কে খাদিজার মা? আমি খাদিজার মা হতে পেরে নিজেকে গ’র্ববোধ মনে করছি। আপনারা আমার কলিজার টুকরা খাদিজার জন্য দোয়া করবেন। এনায়েতপুর ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ.কে.এম হাবিবুল্লাহ ফকির জানিয়েছেন, ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল খাদিজা। নিয়মিত কাসের পাশাপাশি ৯ম-১০ম শ্রেণীতে আবাসিক ফ্রি কা’শ করাতেন শিক্ষকরা।

শাহাবুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: মকবুল হোসেন জানিয়েছেন, খাদিজা আমাদের কলেজে ভর্তি হবার পর থেকে তাঁর লেখাপড়ার আগ্রহে আমরা মুন্ধ ছিলাম। আমার ধারণা ছিল সে একদিন বাংলাদেশের বিশিষ্টজনদের একজন হবে। সেটি সত্যি হয়েছে, আমরা গ’র্ববোধ করি। তার কমর্ময় জীবন আরও সুখময় হউক। খাদিজা খাতুন বলেন, অজোপাড়া গায়ের সন্তান আমি। অ’বহেলিত ও অশিক্ষিত সেই সমাজের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং মানুষের পার্শ্বে দাঁড়াতে চাই। প্র’ত্যাশিত আশা পূরণ হয়েছে তবে আমি অনেক দূর অগ্রসর হতে চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102