মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

টানা তিনদিন অনাহারে কাটাচ্ছে কাশ্মীরিরা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৯ আগস্ট, ২০১৯
  • ২৫৭ Time View

টানা তিনদিন ধরে কাশ্মীরে সবকিছু বন্ধ। বাজার খোলা নেই, এটিএম বুথও বন্ধ। কেউ চাইলেও ঘর থেকে বের হতে পারছে না, কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছে না। কার্যত বিশ্ব থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই ভূস্বর্গ। এভাবে সব কিছু বন্ধ থাকলে দরিদ্র লোকজন তীব্র খাদ্য সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত সোমবার ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়। এর ফলে প্রায় সাত দশক ধরে কাশ্মীর যে বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছিল তা হারাতে হলো। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পাশাপাশি সেখানে গত রোববার থেকেই কারফিউ চলছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, প্রতিটা রাস্তায় ও গলির মুখে নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারা দিচ্ছে। দোকান, স্কুল-কলেজ, মোবাইল, ল্যান্ডফোন, ইন্টারনেট পরিষেবা- এমনকি টিভি চ্যানেলগুলোও বন্ধ। কাশ্মীরের বেশিরভাগ নেতাই আটক হয়েছেন। কাশ্মীরে অচলাবস্থায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক খাবার সরবরাহ। ব্যাংক ও এটিএমগুলোতেও অর্থ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কাশ্মীরবাসী। ৭২ ঘণ্টা পার না হতে তাই দোকানগুলোতেও শেষ হয়ে গেছে খাবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। তিন দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত অনেক কাশ্মীরির। গত সোমবার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করায় জম্মু-কাশ্মীর ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ অধিকার হারাচ্ছে। এ ছাড়া হারাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদাও। ভেঙে দুই ভাগ করা হচ্ছে কাশ্মীরকে। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ দুটি আলাদা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। যে চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, সেই চুক্তি বাতিল হওয়ার কারণে অন্যান্য রাজ্য থেকে কাশ্মীরে স্থায়ী আবাসস্থল গড়ে তোলা লাখ লাখ মানুষ এখন যেকোনো উপায়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। হাজার হাজার মানুষ কাশ্মীর ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের কেউ কেউ বাসস্থান না পেয়ে স্টেশনে বেশ কয়েক দিন কাটিয়ে দিয়েছেন। সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছেন না। এ অচলাবস্থায় কাশ্মীরে খাদ্যে স্বল্পতা দেখা দিয়েছে। এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে কাশ্মীরে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এদিকে, সেখানকার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় গত কয়েকদিন ধরেই কাশ্মীরের বাইরে থাকা লোকজন তাদের পরিবারের সঙ্গে কোনভাবেই যোগাযোগ করতে পারছে না। এক কাশ্মীরি জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। মা-বাবাকে একা রেখেই দিল্লি গেছেন তিনি। তার বাড়ি শ্রীনগরে। কাজের সূত্রে তাকে দিল্লি থাকতে হচ্ছে। গত ২ আগস্ট শেষবারের মতো বাড়ি গিয়েছিলেন। সে সময়ই পরিস্থিতি অন্য রকম লাগছিল। অমরনাথে নাশকতার আশঙ্কার কথা জানিয়ে বারামুলায় জাতীয় সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার? অথচ দুই এলাকা দু’দিকে অবস্থিত। এমন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এটিএম থেকে টাকা তুলেছিলেন ৪ আগস্ট সকালে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে দোকান-বাজার, এটিএম বুথ সব কিছুই বন্ধ আছে। শহরজুড়ে চলছে কারফিউ। তবে কাশ্মীরে প্রত্যেকের বাড়িতেই থাকে শাক-সবজির বাগান। তা দিয়েই তাদের প্রতিদিনের খাবার-দাবার চলে যায়। কিন্তু এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরবর্তীতে কী হবে সেটা কেউই জানে না। কেউ দিনের বেলা গাড়ি নিয়ে বের হলে সেনারা আটকাচ্ছে। রাতের দিকে পাহারা কম থাকে। সে কারণে লোকজন রাত ১০টার পর বাইরে যাচ্ছেন। ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রতিবাদ হচ্ছে, লোকজন বিক্ষোভ করছে। সেনারাও পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুড়ছে। তবে শহরের হাসপাতাল সংলগ্ন ওষুধের দোকানগুলো খোলা আছে। নার্সিংহোম, হাসপাতালে গেলে চিকিৎসা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেখানে যাওয়ার কোন উপায় নেই। যাদের গাড়ি নেই, তাদের কেউ অসুস্থ হলে কিভাবে হাসপাতালে নেবে? কারণ অ্যাম্বুল্যান্স ডাকাতো সম্ভব হচ্ছে না কারণ সব ফোনের সংযোগই তো বন্ধ। কোথাও আগুন লাগলেও একই অবস্থা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102