মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৮:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

কাশ্মীর থেকে এক বোন: আমাদের কান্না কি তোমরা শুনতে পাও

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৩০৩ Time View

সেখান থেকেই এক রাতে ৩২ জন মেয়ে উ’ধা’ও হয়ে যান। দৃষ্টিহী’ন বৃ’দ্ধ বাবা কাঁদছেন! পা’গলের মতো স্বামী খুঁজ’ছেন। সন্তানদের কা’ন্না থামানো যাচ্ছে না} সত্যি আপনারা পারেনও বটে! কাশ্মী’রি আপেল ও কাশ্মীরি মেয়েদের কী সুন্দর এক সুতায় বেঁধে দিলেন। বুঝিয়ে দিলেন, দুই-ই মিষ্টি ও সুন্দর। আন্তর্জা’লে কাশ্মী’রি মেয়ে ও ‘ম্যা’রি কাশ্মী’রি গা’র্ল’ সার্চ করে বিশ্ব কাঁপা’লেন আপনারা। ভাগ্যি’স, গু’গল ছিল! নইলে জানাই যেত না আপনাদের এমন গ’ভীর সৌ’ন্দর্যবোধের কথা। কাশ্মীরে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলো’প প্রসঙ্গে দেশ উত্তাল। আর এর মধ্যেই আপনাদের মনে হলো, দেশ-কাল চুলোয় যাক। কাশ্মীরের মেয়েরা তো এ বার হাতের নাগালে চলে এল!

আপনারা কেউ ১০০ শতাংশ সাক্ষর রাজ্যে’র বাসিন্দা’, কারও আবার শিক্ষা-সংস্কৃতির অহঙ্কা’রে মাটিতে পা পড়ে না! সেই জন্যই বুঝি আপনাদের দেখার চোখও এত সুন্দর! তবে কী জানেন, যে মেয়েদের জন্য আপনারা এত উতলা হয়ে উঠেছেন, তাদের কোমরে বন্দু’কের বাটের দা’গটা বোধহয় আপনাদের চোখে পড়েনি, না? পিঠে ভা’রী মে’টাল বেল্টে’র কালশি’টেও আপনাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু মুখে নেকড়ের আঁচ’ড়ের মতো সেই দগ’দগে ক্ষতটাও কী করে চোখ এড়িয়ে গেল?

আসুন, আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিই আরও কয়েকজন কাশ্মীরি মেয়ের সঙ্গে। ওই মহিলাকে দেখছেন? খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন। এখন সেখানেই বিব’স্ত্র অ’বস্থায় পড়ে আছেন। বাড়িতে রয়েছে ওঁর পাঁচ বি’বাহযোগ্য ক’ন্যা। বেচারা এই অপমান সইতে পারলেন না। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই মা’রা গেলেন! আচ্ছা, আপনি কি কারও গোঙানি শুনতে পাচ্ছেন?

ওই দেখুন, আর এক কাশ্মীরি মেয়ে! বুটের আঘা’ত আর অত্যা’চারে রক্তক্ষ’রণ ব’ন্ধ হচ্ছিল না। ওঁর পেটে ১০টি সেলাই পড়েছে। ওই যে, আর এক মেয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। বন্দুকের নলের আঘাতে জরায়ু’তে গভীর ক্ষ’ত। এখন পচতে শুরু হয়েছে। প্রাণে বাঁচতে গেলে জরা’য়ু কে’টে বাদ দিতে হবে। এই মহিলা কোনো দিন মা হতে পারবেন না।

দূরের ওই গ্রাম দু’টি দেখতে পাচ্ছেন? কুনান ও পোশপোরা। সেখান থেকেই এক রাতে ৩২ জন মেয়ে উ’ধাও হয়ে যান। দৃষ্টিহীন বৃদ্ধ বাবা কাঁদছেন! পাগলের মতো স্বামী খুঁজছেন। সন্তানদের কান্না থামানো যাচ্ছে না। কী অপরূপ দৃশ্য, তাই না? ওই যে, আর এক কাশ্মীরি ছিন্ন’ভিন্ন দে’হ পড়ে রয়েছে। তাকে করাত দিয়ে কাটা হয়েছে। ত্রেহগামের সরকারি বিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সহকারীর কপালে আর কী-ই বা জুটত? আর ক্রালখুদের অর্চনা কিংবা শিক্ষা বিভাগের সেই নারী অধিকর্তা? পরিবারের সকলের সামনেই চলে অত্যাচার এবং শেষতক হত্যা!

গুরিহা’কার সেই মেয়ের কথা মনে আছে? ভরা পরিবারে শ্বশুর ও ননদের সঙ্গে বসেছিলেন তিনি। সকাল তখন ৯টা। বাচ্চাকে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। ঠিকই তখনই ভারী ‘বুট রা’স্তা থেকে উঠে এল একেবারে ঘরে। বন্দুকের নল গিয়ে ঠেকল বাচ্চা’র বুকে’। মাকে নির্দেশ মতো উঠে যেতে হল। কিছুক্ষণ পরে শোনা গেল চিৎকার। পুলও’য়ামার আহা’রবল জল’প্রপাতে কান পাতলে এখনও হয়তো সেই চিৎ’কার শোনা যাবে। কাশ্মী’রি মে’য়েরা সু’ন্দরী! শুনে দেখবেন এক বার, তাঁদের আতর্না’দও কেমন মিষ্টি!

মবিনা গনি বিয়ের পরে শ্বশুর’বাড়িই পৌঁছ’তে পারলেন না। পথেই ম’বিনা আর তাঁর মা’সির উপর হয়ে গেল অত্যাচার। ২৪ বছরের হাসিনা ক্ষত’বি’ক্ষত দেহ নিয়ে হাসপা’তালে পৌঁ’ছলেন। হাত-পা-মুখ ছিঁড়ে’খুঁড়ে একাকার। জেলা হাসপাতালে হিহামা গ্রামের সেদিন সাত মেয়ে হাজির। বিয়ের আসর ভে’ঙে গিয়েছে। নব’বধূ-সহ সবার শ’রীরে ক্ষ’ত। বিহোটায় এক মেয়েকে ছাড়াতে ২০ জন মেয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা আটক থাকলেন। বাকিটা ইতিহাস।

সাইদপোরা গ্রামের ১০ থেকে ৬০ বছরের মেয়ে’রাও জানতেন না, কখন কে অ’র্ডার হাতে নিয়ে এসে বলবে, ‘সা’র্চ ই’উ’। তার পরে মধ্যরাতে এসে ছিঁ’ড়ে ফেলবে কাপ’ড়। ঘরের কোনায় দাঁ’ড়িয়ে দেখবে আর এক ‘ছোট্ট মেয়ে। সেও জানবে, এক দিন এমনি করেই সার্চ অর্ডার আসবে তারও।

দরজা খুলেই তৈরি হতে হবে তল্লাশির জন্য। আয়াতের মতো মুখস্থ হয়ে যাবে সেই দু’টি বাক্য—‘আই হ্যাভ অর্ডার। আই হ্যা’ভ টু সা’র্চ ইউ।’ প্রতিবাদী বৃ’দ্ধার বুকে লা’থি মে’রে উল্টে ফে’লা হবে। বেঁধে ফেলা হবে তার মুখ। তার পরে সেই ভবিতব্য।
লেখক : শিক্ষিকা, রঘুনাথগঞ্জ হাইস্কুল

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102