শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

কাশ্মীরের ৮০ লাখ মানুষ তিন মাস অবরুদ্ধ : Muslimvoice24.com

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ২০০ Time View

মুসলিম ভয়েস ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর জায়গা, পৃথিবীর স্বর্গ, বিশ্বের ছাদ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভূমি, সবুজ প্রকৃতি, পাহাড় আচ্ছাদিত, নদী, লেক, জলপ্রপ্রাতে ঘেরা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য সমৃদ্ধ, আতিথেয়তায় অনন্য, অনন্যসুন্দর মানুষ, বিশেষ খাবার, ফল, এবং পর্যটকদের স্বর্গ কাশ্মীর এখন বেঁচে থাকার জন্য অন্যের দয়ার উপর নির্ভর করে আছে।

প্রায় এক মিলিয়ন ভারতীয় সেনা প্রায় তিন মাস ধরে আশি লাখ নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ৫ আগস্ট থেকে কাশ্মীরে কারফিউ জারি রেখেছে ভারত। খাবার, জ্বালানি আর ওষুধের মারাত্মক সংকটে আছে মানুষ। মোবাইল ফোন সেবা, ইন্টারনেট এবং সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। কারফিউ জারির আগে ভারত কাশ্মীর থেকে সকল পর্যটক ও সফরকারীদের সরিয়ে নেয়। সারা দুনিয়া থেকে কাশ্মীর এখন বিচ্ছিন্ন। মিডিয়া কর্মীদের সেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই। জাতিসংঘের কর্মকর্তা, বিদেশী কূটনীতিক এবং এমনকি পর্যবেক্ষকদেরও সেখানে যাওয়ার অনুমতি নেই। আমেরিকান কংগ্রেসম্যানদের কাশ্মীরে যেতে দেয়া হয়নি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে যেতে দেয়া হয়নি। অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে কাশ্মীরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

এই অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, গুরুত্বপ‚র্ণ ব্যক্তিসহ হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা হিসাব ছাড়িয়ে গেছে, ভুয়া এনকাউন্টার আর হত্যা ব্যাপক বেড়ে গেছে, গণহত্যার সংখ্যা দুই-অঙ্কের কোাঁয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, নিরাপত্তার বাহিনীর হাতে বিচার বহির্ভ‚ত হত্যা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, নির্যাতন প্রতিদিনের রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বাবা-মায়ের সামনে শিশু ও ছোঁদেরকেও শিকার হতে হচ্ছে, অপমান এবং ঘৃণা ও প্রতিহিংসার অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণ করা হচ্ছে। ভারতের বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা মানবজাতির স্মরণকালের ইতিহাসের মধ্যে মানবাধিকারের সমস্ত রেকর্ড অতিক্রম করে গেছে।

কাশ্মীর মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা যেখানকার ৮৭% মানুষ মুসলিম। দেশভাগের সময় ব্রিটিশরা উপমহাদেশকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ভাগ করে দিতে সম্মত হয়। মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা হবে পাকিস্তানের এবং হিন্দু সংখ্যাগুরু এলাকা হবে ভারতের। এই নীতি অনুসারে মুসলিম সংখ্যাগুরু কাশ্মীর হওয়ার কথা পাকিস্তানের। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী কাশ্মীরে প্রবেশ করে জোর করে এর একাংশ দখল করে রেখেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন স্থানীয় মানুষের প্রতিরোধ মোকাবেলা করতে পারেনি, তখন তারা সাহায্যের জন্য জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়। জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিল তাৎক্ষণিক অস্ত্রবিরতি কার্যকর করে কাশ্মীরের জনগণের গণভোটের ভিত্তিতে সেখানকার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। নিরাপত্তা পরিষদ কাশ্মীরের জনগণকে ভারত বা পাকিস্তানের যে কোন একটিকে বেছে নেয়ার সুযোগ দেয়।

যেহেতু কাশ্মীর মুসলিম সংখ্যাগুরু এলাকা, তাই সেখানে গণভোটে হেরে যাওয়ার ভয়ে ১৯৪৮ সাল থেকে গণভোঁ পিছিয়ে যাচ্ছে ভারত। এদিকে, কাশ্মীরের জনসংখ্যার চিত্র বদলে দিয়ে মুসলিমদের সংখ্যালঘু বানানোর জন্য ভারতের অন্যান্য জায়গা থেকে হিন্দুদের এনে কাশ্মীরে তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। এই লক্ষ্য হাসিলের জন্য ভারত অতিরিক্ত বল প্রয়োগ এবং কাশ্মীরীদের দমনের জন্য সব ধরনের অপকর্ম শুরু করেছে। দমন আইন, কালো আইন, বিচারবহির্ভ‚ত হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, বন্দী করা, গণহত্যা ইত্যাদি সব ধরনের বর্ব কর্মকান্ড শুরু করেছে তারা, তবে এরপরও কাশ্মীরের মানুষের স্বাধীকারের সংগ্রামকে তারা দমাতে পারেনি।
আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় ভারতীয় বর্বরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সেটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ভারতের বর্বরতার প্রতিবেদনও প্রচারিত হচ্ছে। হলোকাস্টের স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এখানে। জার্মানিতে ইহুদিদের সাথে যেটা হয়েছে বা রুয়ান্ডাতে যেটা হয়েছে, সে রকমই ঘটছে কাশ্মীরে। হিটলারের মতোই কাশ্মীরে বন্দিশিবির খুলেছে ভারত। কার্যত মোদির আদর্শ হিটলারের মতোই এবং তারা ঠিক একই রকম পদক্ষেপ নিচ্ছে।

কাশ্মীরে হলোকাস্ট এড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়কে অবশ্যই সক্রিয় হতে হবে, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, এই মুহ‚র্তেই সক্রিয় হতে হবে। তারা কি গণহত্যা শুরুর জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে এরপর কাশ্মীরে ফটো সেশান করা যায়, ডকুমেন্টারি তৈরি করা যায়, আর প্রতিবেদন তৈরি করে পরবর্তী প্রজন্মকে কাশ্মীরের হলোকাস্টের ব্যাপারে অবগত করা যায়?

কাশ্মীরে মানুষের জীবন রক্ষার জন্য জাতিসংঘকে অবশ্যই শান্তিরক্ষী পাঠাতে হবে। জাতিসংঘের এটা দায়িত্ব এবং সমগ্র আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়, সকল দেশের কাছে এটা একটা আবেদন, যাদের বিবেকবোধ আছে এবং মানুষের জীবনকে যারা মূল্য দেয়, সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন যারা মানবতায় বিশ্বাস করে এবং কাশ্মীরে মানবতাকে রক্ষার জন্য উঠে দাঁড়ানোর মতো বিবেক যাদের রয়েছে।

ভারত যুদ্ধাপরাধ করে যাচ্ছে, এবং জেনেভা কনভেনশান, রোম কনভেনশান অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের দায়ে তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। নীতি প্রণয়নের পর্যায়ে, বা সেটা বাস্তবায়নের পর্যায়ে, স্ট্যাাঁস বা র‌্যাঙ্ক যাই হোক – প্রতিটি ব্যক্তি এখানে কাশ্মীরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দায়ি, এবং আন্তর্জাতিক কোর্ঁ অব জাস্টিসে অবশ্যই তাদের বিচার হতে হবে এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ের মাত্রা অনুযায়ী তাদের বিচার হতে হবে। সূত্র : সাউথ এশিয়ান মনিটর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102