বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কাশ্মীরের জামা মসজিদ বন্ধ করে জুমার নামায পড়তে দেয়নি ভারত জুমার আলোচনায় খতিবদের ডেঙ্গু-গুজব-বন্যা নিয়ে বক্তব্য রাখার আহ্বান ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর মসজিদে গুলি করতে গিয়ে উল্টো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাবেক মার্কিন সেনা! ইন্টারনেট সেবা নিতে চাইলে কোরআনে শপথ নিতে হবে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আয়ের একমাত্র অবলম্বন ভ্যানটি চুরি হয় বিমানবন্দরে লাগেজ হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়ার উপায় আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতির সাথে হিজরী সন সম্পৃক্ত: চরমোনাই পীর The story of success -Ashraf Ali Sohan চিত্রনায়িকা পরী মণি ও (এডিসি) সাকলায়েনের নতুন ভিডিও ফাঁস, দেখুন গোপালপুরে মসজিদে হামলায় বৃদ্ধ নিহত, সড়ক অবরাধ, আটক দুই কোম্পানীগঞ্জে দিনদুপুরে কলেজছাত্র অপহরণ ৪ দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ বানিয়াচংয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের আবিস্কার নিয়ে বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত খুলনায় স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ায় যুবক গ্রেফতার

করোনা যুদ্ধ, এই ক্রান্তিকালে রাজাকার আর কাপুরুষদের চিনে রাখা দরকার: ডাঃ রনক

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩০৯ Time View

সবার আগে “রাজাকার”, “বীর” আর “কাপুরুষ” এই শব্দগুলির অর্থ জানা দরকার।

•(রাজাকার): যারা শত্রুর সাথে আঁতাত করে নিজ দেশ বা সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুকে আমন্ত্রণ জানায় এবং নিজ সম্প্রদায়ের দুর্বল স্থানে শত্রুকে আক্রমন করতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা করে তাদেরকেই “রাজাকার” বলে।

•(বীর) : যারা সীমিত শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্বেও দেশের স্বার্থে কোন কিছু পাওয়ার আশা না করেই বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদেরকে “বীর” বলা হয়।

•(ভীরু/কাপুরুষ) : যুদ্ধক্ষেত্রে শারিরীক ও মানসিক দুর্বলতর যে ব্যাক্তিটি নিজ দেশের সীমিত সামর্থ্যের অজুহাতে বৃহৎ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিশ্চিত পরাজয় ভেবে পলায়নকেই বেছে নেয় তাকে “ভীরু/কাপুরুষ” বলে।

#COVID_19 রোগটি যখন শত্রু’র ভূমিকায় তখন কে রাজাকার , কে বীর, আর কে কাপুরুষ তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরী করা একটা অনেক বড় ষড়যন্ত্রের অংশ।
কাউকে বলীর পাঠা বানিয়ে নিজের দায় অন্যের উপর চাপানোর সনাতনী পদ্ধতি এটা।
এবং এটা জনগনের বুঝা দরকার।

“রাজাকার” তো রাজাকার’ই। সবচেয়ে নিকৃষ্ট উপাধি।

তিন মাস আগে বিশ্বে COVID-19 রোগটি আঘাত হানলো। সবাই জানলো যে এর কোন ভ্যাক্সিন নাই, শুধু প্রতিরোধই হলো একমাত্র চিকিৎসা
অর্থাৎ দেশে এই রোগ প্রবেশ করতে না দেওয়াই মূল চিকিৎসা।

[]দেশে রোগটির প্রবেশে বাধা দেয়ার মূল দায়িত্ব কাদের ছিলো?
>জি জনাব, এই দায়িত্ব তো নীতি নির্ধারকদের ছিলো।
>তবে কাদের অনুমতি বা অবহেলায় দেশে COVID-19 ঢুকলো?
>জনাব,এটাও ঐ নীতি নির্ধারকদের অনুমতি বা অবহেলায়।   তো কাজে অবহেলার জন্য উনারা কেন অপবাদ নিবেন না?

[]আচ্ছা,দেশে মহামারীর পূর্বপ্রস্তুতির অংশ সরুপ হসপিটালে সাধারণ রোগী ও করোনা রোগীর সেপারেট চিকিৎসার প্রয়োজনে ক্যাটাগরী ভিত্তিক হসপিটাল নির্ধারণ করে সমন্বিত চিকিৎসা ও সংক্রমন বিস্তার রোধ করার দায়িত্ব কাদের হাতে ছিলো?
>জনাব, ওটাও নীতিনির্ধারকদের হাতে ছিলো।
>তবে সমন্বয়হীনতা ও বিলম্বের কারনে হসপিটালগুলিতে সাধারণ রোগীর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ও চিকিৎসা পেতে হয়রানির দায় কে নিবে?
>জনাব, ওটাও উনাদেরই নেয়া উচিৎ।
>তবে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে অপবাদটুকু উনারা নিবেন না কেন?

[]হসপিটালে রোগের টেস্ট কিট,পিপিই, আর আইসিইউ বেড পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করার দায়িত্ব কাদের?
>জি জনাব, ওটাও ঐ নীতিনির্ধাকদেরই।
>তো সময় মত সব ম্যানেজ না করার জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরীর দায় কাদের ?
>জনাব,ওটা তো উনাদেরই হওয়ার কথা ।
>তো দায় উনাদের থাকলে অপবাদটুকু উনারা নিবেন না কেন?
[]সামাজিক দূরত্ব রক্ষাকে মূল প্রতিরোধ ভাবা হলো । অথচ ছয় সাত লাখ প্রবাসি থাকা সত্বেও দেশে জনসমাবেশ বন্ধ করতে না পারলে রোগের সংক্রমন বেড়ে যেতে পারে এটা জেনেও কাদের দায়িত্বহীনতায় রোগটির কমিউনিটি বিস্তার ঘটলো?
>জি জনাব, ওটাও তো সেই নীতিনির্ধারকদের অবহেলাতেই।

>তো দায়িত্ব যাদের ছিলো অবহেলার দায়ে অপবাদটুকু তারা নিবে না কেন?
[]উপজেলার একজন ডাক্তার নিজের দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের সমস্যা আর পর্যাপ্ত পার্সোনাল প্রটোকশনের অজুহাতে করোনার রোগীর চিকিৎসা দিতে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এর দায় কার?
>জি জনাব, এটা ঐ কাপুরুষ ডাক্তারেরই দায়।

যদিও পিপিই এর অপর্যাপ্ততায় একজন চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়া মানে শত শত রোগীর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে তবুও পালিয়ে গিয়ে উনি অমানবিকতা ও কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন।
>তাই এর দায় এবং অপবাদ ঐ চিকিসককেই নিতে হবে।এবং হয়ত শাস্তিও তার প্রাপ্য।

[]দেশে COVID-19 এর আগমনে থেকে শুরু করে আজকের এই যে সংক্রমন বিস্তার পরিস্তিতি তার জন্য যাদের অবহেলা আর সিদ্ধান্তহীনতা দায়ী ছিলো তা কারো অজানা নয়।
এই দায়ীদের লিস্ট তৈরী করা খুব জরুরী ।
লিস্টের ঐ লোকগুলিই মূলত “রাজাকার” আর “কাপুরুষ”।

COVID-19 দেশে ঢুকানো হলো, দায়িত্বশীলদের সমন্বয়হীনতায় সংক্রমনও ঘটলো , অথচ শত সীমাবদ্ধতা সত্বেও নি:শর্তে লড়াই করতে থাকা চিকিৎসক শ্রেনীর উপর একটা মহলের নিকৃষ্ট অপবাদ চাপানোর জগন্য অপচেষ্টা সার্থক হলো।

দেশের সীমাবদ্ধ সামর্থ্যে ভীত ও শারিরীক মানসিক দূর্বল যোদ্ধাটিকে আপনি বড়জোর ভীরু বা কাপুরুষ বলতে পারেন কিন্তু কখনোই ঐসব রাজাকারের কাতারে ফেলতে পারেন না।আর এদের সংখ্যা অতি নগন্য। এদের লিস্ট করাও সহজ। এবং স্বচ্ছতার প্রয়োজনের এদের লিস্টও করা উচিত।
বাস্তবতা হলো, এই ভীত চিকিৎসা যোদ্ধাকেও যাথার্ত অনুপ্রেরনা ও সাপোর্ট দিলে সেও হয়ত যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করবে না।

অথচ যারা রাজাকারীর মূল ভূমিকায় ছিলো তারাই খুব চতুরতার সাথে সম্মূখ যোদ্ধাদের উপর তাদের নিজেদের অপকর্মের বিশাল বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বরাবরের মতোই সেইফ সাইডে চলে গেছে।
কারন তারা খুব ভালোভাবেই জানে যে, অতি সংবেদনশীল এই জনগণ “চিকিৎসকদের অবহেলার রোগীর মৃত্যু” এই ডায়লগ খুব আনন্দের সাথেই গ্রহন করবে।
অথচ এই সামগ্রিক অবহেলার নেপথ্যে কারা ছিলো তা হয়ত জনগণের চিরকালই অজানা থেকে যাবে।

জনগনের ক্ষতির পরিমান বিবেচনায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে ফার্স্ট টু লাস্ট রাজাকার আর কাপুরুষদের লিস্ট করা শুরু হোক। সেটা নীতিনির্ধারক হোক, চিকিৎসক হোক, আর যত বড় ক্ষমতাধরই হোক।
কেউ যেন বাদ না যায়।

ডা: রনক

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

পরিচালনা পর্ষদ

সম্পাদক ও প্রকাশক:
Admin
© ২০২০ প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত.মুসলিম ভয়েস কোপেরেটিভ লি.
Design By NooR IT
themesba-lates1749691102